চট্টগ্রামে শিশু সহিংসতা দমনসংক্রান্ত দুটি পৃথক ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম একই আদালতকক্ষে পরিচালিত হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়ায় নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্ষ সংকটের কারণে বিচারকাজের গতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নথিপত্র সংরক্ষণ, সময় ব্যবস্থাপনা ও শুনানি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিনিয়ত সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের পঞ্চম তলার ৫০৬ নম্বর কক্ষে বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে চট্টগ্রাম শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এবং চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম। ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে দুই ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো পৃথক আদালতকক্ষের ব্যবস্থা করা হয়নি।
ফলে চট্টগ্রাম জেলার ১৭টি থানা এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) আওতাধীন ১৬টি থানার শিশু সহিংসতার মামলার বিচার চলছে একই কক্ষে। আদালত সূত্র জানায়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মহানগর ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এরপর একই এজলাসে জেলা ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত দুই ট্রাইব্যুনালে মোট ১ হাজার ৯২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে ৪১৫টি এবং মহানগর ট্রাইব্যুনালে ৬৭৭টি মামলা বিচারাধীন।
আইনজীবীরা বলছেন, একই কক্ষে পৃথক দুটি ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ পরিচালিত হওয়ায় বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একইসঙ্গে নথিপত্র সংরক্ষণ, শুনানির সময় নির্ধারণ ও আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর ও বেঞ্চ সহকারীরাও জানিয়েছেন, কক্ষ সংকটের কারণে বিচারিক কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে আদালত ভবনে নতুন এজলাস প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে একটি ট্রাইব্যুনাল নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হতে পারে।
আদালত প্রশাসন জানিয়েছে, আদালত ভবনে কক্ষ সংকট নিরসনে নতুন কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন আদালতকক্ষ চালু হলে বিচারিক কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও গতিশীলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
মতামত