ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করেছিলেন ময়মনসিংহের গারো সম্প্রদায়ের তরুণী বানী দারোউ। কিন্তু বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় তার মরদেহ ফিরে এসেছে পরিবারের কাছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তিনি স্বামীর বাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে পরিবারের অমতে এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন বানী দারোউ। বিয়ের জন্য তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। এরপর থেকে তিনি স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই আদিবাসী তরুণীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
তথ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের কিছু তরুণী প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে বাঙালি যুবকদের বিয়ে করছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজের বিরোধিতার মুখে এসব বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়।
জানা যায়, এমন কিছু ক্ষেত্রে বিয়ের পর নির্যাতন, পারিবারিক কলহ, বিচ্ছেদ কিংবা সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার শিকার হতে হয় আদিবাসী নারীদের। বিচ্ছেদের পর অনেকেই আর পরিবারে ফিরে যেতে পারেন না, ফলে তাদের জীবন অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগে পড়ে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত কয়েকটি ঘটনাও এ বিষয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর মধ্যে গঞ্জালিকা ত্রিপুরা নামে এক আদিবাসী নারীর স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে ঘরছাড়া হওয়ার ঘটনা এবং রাঙ্গামাটির এক নারীর বিচ্ছেদের পর মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
মতামত