শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

ভারতের কূটনীতিকের সঙ্গে ‘গোপন’ বৈঠক জামায়াত আমিরের


| প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের কূটনীতিকের সঙ্গে ‘গোপন’ বৈঠক জামায়াত আমিরের
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একটি জাতীয় সরকারে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, চলতি ২০২৫ সালের শুরুতে ভারতের একজন কূটনীতিকের সঙ্গে তার একটি গোপন বৈঠক হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান তিনি। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে রয়টার্স।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, নির্বাচনের পর দেশে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে তিনি জাতীয় সরকারে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখছেন। তার মতে, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে সব রাজনৈতিক দলকে খোলা মনোভাব নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই এবং অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারলে সম্মিলিতভাবে সরকার পরিচালনা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির আরও জানান, চলতি বছরের শুরুতে তিনি একজন ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে এই বৈঠকটি প্রকাশ্যে না আনার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতীয় ওই কূটনীতিকই বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন। অন্য দেশের কূটনীতিকরা প্রকাশ্যে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও ভারতীয় কর্মকর্তার অনুরোধের কারণে বৈঠকের বিষয়টি এতদিন গোপন রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন নয়াদিল্লি বাংলাদেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে—এমন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

জাতীয় সরকারের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচি একটি জাতীয় সরকারের অভিন্ন লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে কোনো সরকারই টেকসই হতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, প্রধানমন্ত্রী হবেন সেই দলের নেতা, যে দল নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসন অর্জন করবে। জামায়াত যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়, তাহলে তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না—সে সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এই বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও ভারত সরকারের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর অতীত সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তার দল কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকে পড়তে চায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামী সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়েও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কোনো সরকারই বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে পুরোপুরি স্বস্তিতে থাকবে না। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি প্রয়োজনে মেয়াদের মাঝপথে পদ ছাড়তে প্রস্তুত বলেও ইঙ্গিত দেন।

তবে বুধবার রয়টার্সের সঙ্গে ফোনালাপে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি আরও জটিল করতে চান না।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভারতের কূটনীতিকের সঙ্গে ‘গোপন’ বৈঠক জামায়াত আমিরের

প্রকাশের তারিখ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একটি জাতীয় সরকারে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, চলতি ২০২৫ সালের শুরুতে ভারতের একজন কূটনীতিকের সঙ্গে তার একটি গোপন বৈঠক হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান তিনি। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে রয়টার্স।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, নির্বাচনের পর দেশে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে তিনি জাতীয় সরকারে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখছেন। তার মতে, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে সব রাজনৈতিক দলকে খোলা মনোভাব নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই এবং অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারলে সম্মিলিতভাবে সরকার পরিচালনা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির আরও জানান, চলতি বছরের শুরুতে তিনি একজন ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে এই বৈঠকটি প্রকাশ্যে না আনার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতীয় ওই কূটনীতিকই বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন। অন্য দেশের কূটনীতিকরা প্রকাশ্যে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও ভারতীয় কর্মকর্তার অনুরোধের কারণে বৈঠকের বিষয়টি এতদিন গোপন রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন নয়াদিল্লি বাংলাদেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে—এমন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে।

জাতীয় সরকারের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচি একটি জাতীয় সরকারের অভিন্ন লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে কোনো সরকারই টেকসই হতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, প্রধানমন্ত্রী হবেন সেই দলের নেতা, যে দল নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসন অর্জন করবে। জামায়াত যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়, তাহলে তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না—সে সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এই বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও ভারত সরকারের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর অতীত সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তার দল কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকে পড়তে চায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামী সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়েও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কোনো সরকারই বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে পুরোপুরি স্বস্তিতে থাকবে না। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি প্রয়োজনে মেয়াদের মাঝপথে পদ ছাড়তে প্রস্তুত বলেও ইঙ্গিত দেন।

তবে বুধবার রয়টার্সের সঙ্গে ফোনালাপে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি আরও জটিল করতে চান না।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
ভারতের কূটনীতিকের সঙ্গে ‘গোপন’ বৈঠক জামায়াত আমিরের
0:00 0:00
1.0x