কিন্তু আজ সেই চট্টগ্রামই ভয়াবহ বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কবলে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, পেকুয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হাজারো পরিবার গৃহহীন হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় একটি প্রশ্ন বারবার উচ্চারিত হচ্ছে—সব দুর্যোগে অন্যের পাশে দাঁড়ানো চট্টগ্রাম, নিজের দুর্যোগে কেন এতটা নিঃসঙ্গ?

চট্টগ্রামের মানুষ অবশ্য তাদের ঐতিহ্য থেকে সরে আসেনি। তরুণরা নৌকা নিয়ে দুর্গত মানুষ উদ্ধার করছেন, স্বেচ্ছাসেবীরা দুর্গম এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু বিপর্যয়ের ব্যাপকতার তুলনায় এসব উদ্যোগ এখনও পর্যাপ্ত নয়।
দুর্যোগ কোনো ধর্ম, বর্ণ বা অঞ্চলভেদ করে না। আজ চট্টগ্রাম বিপর্যস্ত, কাল অন্য কোনো জনপদও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে। তাই এই সংকটকে একটি আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে নয়, বরং জাতীয় মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
সময়ের সঙ্গে বন্যার পানি নেমে যাবে, মানুষ আবার ঘর গড়বে। কিন্তু এই কঠিন সময়ে কে পাশে দাঁড়িয়েছিল আর কে নীরব ছিল—সেই স্মৃতি দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে অম্লান থাকবে। তাই আজ প্রয়োজন সহানুভূতির কথার চেয়ে কার্যকর মানবিক উদ্যোগ। কারণ বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম শুধু একটি অঞ্চলের সংকট নয়; এটি সমগ্র বাংলাদেশের মানবিক দায়িত্ব।
মতামত