ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা দিতে সারাদেশের নগর ও শহরাঞ্চলের জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ও ম্যানুয়্যাল বিলবোর্ড স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে গণভোটের লোগো, ব্যালট নমুনা ও লিফলেট ব্যবহার করে ব্যাপক প্রচারণা জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গণভোট বিষয়ক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়কের দফতরের সিনিয়র সহকারী সচিব মীর আলিফ রেজার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় সারাদেশের সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসমূহের মেয়র, প্যানেল মেয়র ও প্রশাসকদের উদ্দেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। অন্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার প্রশাসকরা অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন। এতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় দেশের মোট ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৩৩০টি পৌরসভার প্রশাসক অংশগ্রহণ করেন।
সভায় জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের বিষয়বস্তু সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে শহরের প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার, বাসস্ট্যান্ডসহ জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ও স্থির বিলবোর্ড স্থাপন করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা গণভোট নিয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছে। কিছু এলাকায় বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচারণাও চালু রয়েছে। অচিরেই এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, তথ্যচিত্র প্রদর্শন, উঠান বৈঠক, ‘ভোট আলাপ’সহ বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে জনগণকে গণভোট সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জানান, ‘ভোটের গাড়ি’ কর্মসূচির মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে ঘুরে ঘুরে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত সাতটি ভিডিও কন্টেন্ট প্রস্তুত হয়েছে এবং আরও কন্টেন্ট তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক প্রচারণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অন্যান্য সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরাও নিজ নিজ এলাকায় গৃহীত কার্যক্রম সভায় উপস্থাপন করেন।
সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহানগর ও পৌর শহরগুলোর প্রবেশপথ এবং জনবহুল স্থানে গণভোটের বিষয়বস্তু তুলে ধরতে ডিজিটাল ও ম্যানুয়্যাল বিলবোর্ড স্থাপন করতে হবে। স্থানীয় সরকারের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। পাশাপাশি মসজিদের ইমাম এবং অন্যান্য ধর্মের নেতাদের মাধ্যমে জনগণের কাছে গণভোটের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ গণভোটের লোগো সর্বত্র ব্যবহারের আহ্বান জানান, যাতে জনগণের মধ্যে আগ্রহ ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়। আগামী সাত দিনের মধ্যে জনবহুল স্থানে গণভোটের লোগো, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত ব্যালট নমুনা ও লিফলেট প্রচারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে নিজ নিজ সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে এই প্রচারণা কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।
মতামত