গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদিবাসী মান্দাই সম্প্রদায়ের এক বয়স্ক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। নিজ বসতভিটা ও কেনা জমিতে অধিকার না পেয়ে অবশেষে মৃত্যুর ১৯ ঘণ্টা পর বাধ্য হয়ে খাস জমিতে ওই নারীর দাফন সম্পন্ন করেছেন স্বজনরা। সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শ্রী গোপালের স্ত্রী শ্রীমতি মেনোকা (৬০) মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পর স্বজনরা যখন তাঁর স্বামীর কেনা জমিতে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন স্থানীয় বিক্রেতা সফির উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা লাঠি-সোঁটা নিয়ে দাফনে চরম বাধা সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিকবার সালিশ-বৈঠক করেও কোনো সুরাহা করতে ব্যর্থ হন। নিরুপায় হয়ে বুধবারে (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশের খাস জমিতেই তাঁর দাফন সম্পন্ন করতে বাধ্য হন সন্তান ও স্বজনরা।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে পরিবারটি আক্তাপাড়া গ্রামে বসবাস করে আসছে। প্রায় এক বছর আগে গোপাল স্থানীয় সফির উদ্দিনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি কিনে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও মূল্য পরিশোধ করেছিলেন। কিন্তু খারিজ জটিলতায় রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করার আগেই গোপালের মৃত্যু হয়। সেই সুযোগে বিক্রেতা সফির উদ্দিন জমি বিক্রির সত্যতা অস্বীকার করে আদিবাসী পরিবারটিকে হয়রানি করে আসছেন। মৃতের স্বজনরা আক্ষেপ করে জানান, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হওয়ার কারণেই তাঁদের কেনা জমিতে অধিকার দেওয়া হয়নি এবং অধিকারহীনভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় মানবধিকার লঙ্ঘন ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মতামত