সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একটি হিন্দু পরিবারের ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করে সীমানা পরিবর্তন ও গাছপালা কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে বসতঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে।
ভুক্তভোগী বাসুদেব রজক (৪৮) কালিগঞ্জ থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, গত ১৫ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সাইফুল ইসলাম, আজিবর রহমান, ফারুক হোসেন টেক্কা, আব্দুর রহমান, জামির হোসেন, আলী বাহার, হাফিজুর রহমান ও মো. বাবু গাজীসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ওই ব্যক্তিরা দা, কুড়াল, কোদাল, লোহার শাবল, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে জবরদখলের উদ্দেশ্যে জমির আকার ও সীমানা পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। এ সময় জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা কেটে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বাসুদেব রজকের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ও তাঁর স্বামী গোপাল রজক বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দেওয়ার জন্য বসতঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের কয়েকজন বাইরে থেকে ঘরের দরজা আটকে দেন। এতে তাঁরা ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এ সময় ধারালো দা ও কুড়াল প্রদর্শন করে তাঁদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


লিখিত অভিযোগে বাসুদেব রজক আরও জানান, জমি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। তিনি বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচারপ্রার্থী হওয়ায় তাঁকে হয়রানি, ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং তাঁর ভোগদখলীয় জমি জবরদখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল বলে তাঁর দাবি।
অভিযোগে ঘটনার প্রত্যক্ষ বা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত স্থানীয় কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গোপাল রজক, জয়দেব রজক, প্রদীপ রজক ও অরবিন্দু রজকসহ আরও কয়েকজন।
অভিযোগে উল্লেখ করা জমিটি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর মৌজায় অবস্থিত। লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, জমিটির এসএ খতিয়ান নম্বর ৩৩০ ও ৪৫ এবং দাগ নম্বর ৩৭৫। জমির পরিমাণ নিয়ে অভিযোগপত্রে ০.৬০ শতক এবং এর মধ্যে ০.৫০ একর উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটির সীমানার উত্তরে অনোয়ার গাজী, দক্ষিণে রাস্তা, পূর্বে ফতেপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পশ্চিমে সামছুর গাজীর জমি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, রাতের আঁধারে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে সীমানা পরিবর্তনের চেষ্টা এবং গাছপালা কাটার ঘটনায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে ৮০ থেকে ৯০ জনের মতো লোকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় একজন সাধারণ পরিবার কীভাবে নিজেদের সম্পত্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করবে—এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
এ ঘটনায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘাত, মারামারি, খুন-জখম কিংবা স্থানীয় শান্তিশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে বলেও অভিযোগকারী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি তপশিলভুক্ত জমি ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
মতামত