নিহত গণপতি চক্রবর্তীকে শিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন স্থানীয়রা এবং অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ নিজেও তাকে 'স্যার' ও তার স্ত্রীকে 'কাকি' বলে সম্বোধন করতেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলেন ওই শিক্ষক এবং তিনি তৎক্ষণাৎ এই অপকর্মের তীব্র প্রতিবাদ জানান। নিজেদের মাদকাসক্তি ও অপকর্ম সমাজ ও পরিবারের কাছে জানাজানি হওয়ার চরম ভয়ে তারা দুজন মিলে সুপরিকল্পিতভাবে এই শিক্ষক ও তার পুরো পরিবারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এ ঘটনার পর শনিবার রাতে পুলিশ তাদের রক্তাত মরদেহ উদ্ধার করলে সমগ্র এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং উৎসুক মানুষের ঢল নামে। চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে সিদ্ধার্থের পিতা বিনয় দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান যে, নিজের সন্তানকে হারিয়ে ফেলা এবং প্রতিবেশী স্বজনদের নৃশংস পরিণতি দেখা অত্যন্ত বেদনার, তবে অপরাধী যেই হোক না কেন, সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যেন দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি প্রদান করা হয়। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন যে এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে সনাতনী এই পরিবারের সাথে সংঘটিত নৃশংসতার বিচারে সর্বোচ্চ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রংপুরে ৪ খুন: "দোষী হলে শাস্তি হোক"— অভিযুক্ত ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন বাবা
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় এক অবসরপ্রাপ্ত সনাতনী শিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই অবুঝ সন্তানকে অত্যন্ত নৃশংস ও নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় জড়িত দুই প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই চার খুনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া অন্যতম মূল অভিযুক্ত হলেন ১৯ বছর বয়সী সিদ্ধার্থ দাস। অপরাধের সাথে নিজের গর্ভজাত সন্তান জড়িত থাকার সন্দেহ দেখা দেওয়ামাত্রই কোনোপ্রকার পক্ষপাত না করে অত্যন্ত সাহসিকতা ও নৈতিকতার পরিচয় দিয়ে ছেলেকে নিজ উদ্যোগে পুলিশের হাতে তুলে দেন পিতা বিনয় দাস। গ্রেপ্তারকৃত অপর অভিযুক্ত হলেন নগরীর সিটি বাজারের মাছ বিক্রেতা মুগ্ধ দাস (২৩)। সম্পর্কে তারা দুজন মামাতো ভাই এবং সিদ্ধার্থ পেশায় একজন স্বর্ণের দোকানের কারিগর। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার ধর্মপ্রাণ স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), তাদের উদীয়মান কন্যা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া নিষ্পাপ পুত্র আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত