রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাঁদের দুই সন্তানকে নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার রেশ না কাটতেই নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে ফরেনসিক রিপোর্ট ও মর্গের ডোমের বক্তব্য নিয়ে। চার সদস্যের এই সনাতনী পরিবারের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ উদ্ধারের দুই দিন পর মর্গের এক ডোমের দেওয়া অবিজ্ঞানসম্মত বক্তব্য এবং তা নিয়ে গণমাধ্যমের চর্চা বিচারপ্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে মোড় ঘোরানোর পাঁয়তারা কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
গত ২২ আগস্ট রাতে উদ্ধার হওয়া দুই দিন ধরে পড়ে থাকা পচনশীল মরদেহ থেকে খালি চোখে 'বীর্য' শনাক্ত করার দাবি কতটা বৈজ্ঞানিক, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা। রংপুর মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত জিসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষের বীর্য নির্গমনের সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যে তরল হয়ে যায়। ফলে দুই দিন আগের গলিত মরদেহ থেকে খালি চোখে বীর্য চিনে ফেলার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবৈজ্ঞানিক। এতে করে মূল তদন্ত ও চিকিৎসার বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিকে বুড়ো আঙুল দেখানো হচ্ছে।
(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
এদিকে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টে ধর্ষণের কোনো আলামত মেলেনি। ফলে চিকিৎসকের বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট ও ডোমের বক্তব্যের মধ্যে থাকা অসংগতি সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে। নিহতদের স্বজন ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, নৃশংস এই চার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা বা বিচারপ্রক্রিয়াকে জটিল করার জন্য এ ধরনের ভিত্তিহীন গুঞ্জন ছড়ানো অনুচিত। ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রতিবেশী দুই যুবক মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানা গেছে। সনাতনী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সর্বস্তরের মানবতাবাদী মানুষ।
মতামত