দীর্ঘ সাত মাস অন্যায়ভাবে কারাভোগের পর ২০০৫ সালের ২৩ মার্চ হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি মুক্তি পেলেও, যে মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক ক্ষত তৈরি করা হয়েছিল তা আজও মুছে যায়নি। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') শৈবাল সাহা পার্থর ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন প্রেক্ষাপট নয়, বরং এটি বাংলাদেশে সনাতনীদের নিরাপত্তা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির এক নির্মম প্রতিফলন। যুগে যুগে দেশে ক্ষমতার রদবদল হলেও সনাতনীদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি; রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কেবল ব্যবহারই করেছে। প্রতিটি শাসনের আমলেই এই সম্প্রদায়ের ওপর নেমে আসা নির্যাতন, নিপীড়ন ও অধিকার হরণের কোনো ন্যায্য বিচার আজ পর্যন্ত হয়নি। প্রতিটি পদে অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার হয়ে বাংলাদেশে সনাতনীরা আজ যেন নিজেদেরই জন্মভূমিতে অপাঙ্কক্তেয় ও অধিকারবঞ্চিত নাগরিকের জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
২১ আগস্টের নাটকে বলির পাঁঠা শৈবাল সাহা পার্থর বিচারহীন ২০ বছর
২১ আগস্টের আলোচিত গ্রেনেড হামলা মামলাকে কেন্দ্র করে নির্দোষ সনাতনী যুবক শৈবাল সাহা পার্থর ওপর চালানো মধ্যযুগীয় নির্যাতন ও মিথ্যা নাটকের ঘটনা আজও বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর চলা প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের এক রক্তাক্ত দলিল হয়ে আছে। ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের 'হার্ডনেট সাইবার ক্যাফে' থেকে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ই-মেইল পাঠানোর অভিযোগে ২০০৪ সালের ২৫ আগস্ট বোনের বাসা থেকে ডেকে এনে আটক করা হয় পার্থকে। তাকে এই বর্বরোচিত হামলার দায় স্বীকার করাতে চালানো হয় অমানুষিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। পার্থ ভারতে পড়াশোনা করার কারণে তৎকালীন প্রশাসন তাকে অনায়াসেই "ভারতের চর" হিসেবে চিহ্নিত করার এক ঘৃণ্য চক্রান্তে মেতে ওঠে। সন্তানের জীবন রক্ষা ও মুক্তির আকুতিতে এক মা মন্দিরে নিজের রক্ত দিয়ে পূজাও দিয়েছিলেন, যা সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতি তৎকালীন রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্দয় আচরণের চূড়ান্ত রূপ ফুটিয়ে তোলে।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত