রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসংলগ্ন ও নিত্যনতুন বয়ান সনাতনী সমাজসহ সর্বস্তরের অধিকারকামী মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর সংশয়ের সৃষ্টি করেছে। গত শনিবার গভীর রাতে নগরের দেবু এলাকার নিজ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, কন্যা পার্থী চক্রবর্তী আগামী ও ১২ বছরের শিশু সন্তান প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুশের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিয়ে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়। এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটি রাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় এবং ঘুমন্ত শিশুটির ওপর আক্রমণের কথা বলা হলেও, বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্য সামনে এনেছেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। আদালতে আসামিদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ এখন নতুন গল্প সাজিয়ে বলছে যে, ঘটনার দিন সকালে ছাদেই আলো ফুটে ওঠার পর ইয়াবা সেবনরত আসামিদের দেখে ফেলা এবং ধমক দেওয়ার কারণে দিনের আলোয় গণপতি, তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং পরে চিনে ফেলার ভয়ে শিশু প্রিয়মকে গামছা পেঁচিয়ে খুন করা হয়। একটি পুরো সনাতনী পরিবারকে এভাবে মুছে ফেলার পেছনে কেবল হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত বা ইয়াবা সেবনের ধোঁয়া ঢাকার মতো ঠুনকো অজুহাত দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
ঘটনার এজাহার, উদ্ধারকৃত আলামত এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার রহস্যময় দিকগুলো এড়িয়ে গিয়ে পুলিশ যেভাবে একের পর এক বয়ান পাল্টাচ্ছে, তাতে বিচারপ্রার্থী জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তার চরম হীনমন্যতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে জমি সংক্রান্ত বিষয় কিংবা সামাজিক ও জাতিগত ব্যবধানের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে নিহতদের ওপর দায় চাপানোর ভঙ্গিতে উপস্থাপন করার পর সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়েই কমিশনারের স্থান ত্যাগ করা সার্বিক তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পরিবর্তে মূল ঘটনাকে আড়াল বা হালকা করার যেকোনো প্রচেষ্টা সনাতনী জনগোষ্ঠীর মৌলিক মানবাধিকার ও নিরাপত্তার অধিকারকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনের সুরক্ষা এবং এই নির্মম চতুর্মুখী হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এখন সময়ের দাবি।
মতামত