শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

ডিসেম্বর ২০২৫: সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য রক্তাক্ত এক মাস


| প্রিন্ট সংস্করণ

ডিসেম্বর ২০২৫: সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য রক্তাক্ত এক মাস
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসটি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য ছিল অন্যতম সহিংস ও আতঙ্কজনক সময়। দেশের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক হামলা, অগ্নিসংযোগ, গণপিটুনি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সারাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও শরীয়তপুরে সংঘটিত একাধিক নৃশংস ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা চরম আকার ধারণ করে।

ভালুকায় মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু শ্রমিককে গণপিটুনি ও পুড়িয়ে হত্যা

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় এক হিন্দু পোশাক শ্রমিককে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গণপিটুনি ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ২০ ডিসেম্বর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় নিহত হন ২৮ বছর বয়সী দিপু চন্দ্র দাস, যিনি ডুবুলিয়া পাইওনিয়ার নিট ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ছিলেন।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

র‍্যাব ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্যাক্টরির ভেতরে কিছু শ্রমিক প্রথমে দিপুকে মারধর শুরু করে এবং পরে তাকে জোরপূর্বক বাইরে বের করে এনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

র‍্যাব জানিয়েছে, ধর্ম অবমাননার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভিডিও বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়।

ভালুকায় সহকর্মীর গুলিতে নিহত আনসার সদস্য বজেন্দ্র বিশ্বাস

ময়মনসিংহের ভালুকায় আরও একটি ঘটনায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন সদস্য নিহত হন। ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুলতানা সোয়েটার্স লিমিটেড কারখানায় দায়িত্ব পালনকালে আনসার সদস্য বজেন্দ্র বিশ্বাস গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

পুলিশ জানায়, তাঁর সহকর্মী আনসার সদস্য নোমান মিয়া মজা করার ছলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত শটগান তাক করলে গুলি বের হয়ে যায়। অভিযুক্ত নোমান মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

শরীয়তপুরে কুপিয়ে ও পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে হত্যা

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় কুপিয়ে ও পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ৩ জানুয়ারি ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তাঁর মৃত্যু হয়।

গত ১ জানুয়ারি রাতে ডামুড্যার তিলই এলাকায় খোকনের ওপর হামলা চালানো হয়। শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। মৃত্যুর আগে তিনি হামলাকারীদের নাম পুলিশকে জানিয়েছিলেন। ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে এবং পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

রাউজানে বাইরে থেকে দরজা আটকে তিন পরিবারের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গভীর রাতে তিনটি হিন্দু পরিবারের বসতঘরে বাইরে থেকে দরজা আটকে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাতের দিকে রাউজান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঢেউয়াপাড়া গ্রামে তেজেন্দ্র লাল শীলের বাড়িতে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে বিমল তালুকদারের বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়। আগুনের তীব্রতা টের পেয়ে বের হতে গেলে তিনি দেখতে পান দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করা। পরে ঘরের পাশের বাঁশের বেড়া ভেঙে তিনি কোনোমতে বের হয়ে প্রাণে রক্ষা পান। এরপর পাশের অমল তালুকদারের ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একই সময় কয়েক শ ফুট দূরে রুবেল দাশের বসতঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে আগুন দেওয়া হয়। আগুনের আঁচ টের পেয়ে রুবেল দাশের পরিবারের সদস্যরা টিন কেটে বের হয়ে যান।

এই ঘটনায় লিটন দাশ আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়। এদিকে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানায়।

রাঙ্গুনিয়ায় সংখ্যালঘুদের বসতঘরে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ, ঘটনাস্থল থেকে ব্যানার উদ্ধার

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় গভীর রাতে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে পেট্রোল বা অকটেন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটে ৩০ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রাঙ্গুনিয়া থানাধীন দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর (ঘাগড়াকুল) এলাকার পশ্চিম পালপাড়ার বোয়ার বাড়িতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা একাধিক বসতঘরের দরজা শিকল বা রশি দিয়ে বাইরে থেকে আটকে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের ধোঁয়া ও চিৎকারে গ্রামবাসীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। এতে কয়েকটি ঘর রক্ষা পেলেও একটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।

ঘটনাস্থল থেকে একটি রহস্যজনক ব্যানার উদ্ধার করা হয়, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ কয়েকজনের নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা ছিল। স্থানীয়দের ধারণা, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এই ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে পরিকল্পিত নাশকতা।

মানবাধিকার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

ডিসেম্বরজুড়ে এসব ধারাবাহিক সহিংসতায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। এই ঘটনাগুলো বাংলাদেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেন ও সাধারণ সনাতনীদের ক্ষোভ 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ঘটনার পর ব্যাপক নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সাধারণ সনাতনী ও নেটিজেনরা ঘটনাগুলোকে মানবতা বিরোধী ও নৃশংস আখ্যা দিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অনেকেই লিখেছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে লক্ষ্য করে সহিংসতা চালানো রাষ্ট্র ও সমাজ—উভয়ের জন্যই ভয়ংকর বার্তা বহন করে। একই সঙ্গে নেটিজেনরা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদার করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ডিসেম্বর ২০২৫: সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য রক্তাক্ত এক মাস

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসটি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য ছিল অন্যতম সহিংস ও আতঙ্কজনক সময়। দেশের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক হামলা, অগ্নিসংযোগ, গণপিটুনি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সারাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও শরীয়তপুরে সংঘটিত একাধিক নৃশংস ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা চরম আকার ধারণ করে।

ভালুকায় মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু শ্রমিককে গণপিটুনি ও পুড়িয়ে হত্যা

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় এক হিন্দু পোশাক শ্রমিককে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গণপিটুনি ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ২০ ডিসেম্বর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় নিহত হন ২৮ বছর বয়সী দিপু চন্দ্র দাস, যিনি ডুবুলিয়া পাইওনিয়ার নিট ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ছিলেন।

র‍্যাব ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্যাক্টরির ভেতরে কিছু শ্রমিক প্রথমে দিপুকে মারধর শুরু করে এবং পরে তাকে জোরপূর্বক বাইরে বের করে এনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

র‍্যাব জানিয়েছে, ধর্ম অবমাননার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভিডিও বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়।

ভালুকায় সহকর্মীর গুলিতে নিহত আনসার সদস্য বজেন্দ্র বিশ্বাস

ময়মনসিংহের ভালুকায় আরও একটি ঘটনায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন সদস্য নিহত হন। ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুলতানা সোয়েটার্স লিমিটেড কারখানায় দায়িত্ব পালনকালে আনসার সদস্য বজেন্দ্র বিশ্বাস গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

পুলিশ জানায়, তাঁর সহকর্মী আনসার সদস্য নোমান মিয়া মজা করার ছলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত শটগান তাক করলে গুলি বের হয়ে যায়। অভিযুক্ত নোমান মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

শরীয়তপুরে কুপিয়ে ও পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে হত্যা

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় কুপিয়ে ও পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ৩ জানুয়ারি ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তাঁর মৃত্যু হয়।

গত ১ জানুয়ারি রাতে ডামুড্যার তিলই এলাকায় খোকনের ওপর হামলা চালানো হয়। শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। মৃত্যুর আগে তিনি হামলাকারীদের নাম পুলিশকে জানিয়েছিলেন। ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে এবং পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

রাউজানে বাইরে থেকে দরজা আটকে তিন পরিবারের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গভীর রাতে তিনটি হিন্দু পরিবারের বসতঘরে বাইরে থেকে দরজা আটকে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাতের দিকে রাউজান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঢেউয়াপাড়া গ্রামে তেজেন্দ্র লাল শীলের বাড়িতে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে বিমল তালুকদারের বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়। আগুনের তীব্রতা টের পেয়ে বের হতে গেলে তিনি দেখতে পান দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করা। পরে ঘরের পাশের বাঁশের বেড়া ভেঙে তিনি কোনোমতে বের হয়ে প্রাণে রক্ষা পান। এরপর পাশের অমল তালুকদারের ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একই সময় কয়েক শ ফুট দূরে রুবেল দাশের বসতঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে আগুন দেওয়া হয়। আগুনের আঁচ টের পেয়ে রুবেল দাশের পরিবারের সদস্যরা টিন কেটে বের হয়ে যান।

এই ঘটনায় লিটন দাশ আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়। এদিকে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানায়।

রাঙ্গুনিয়ায় সংখ্যালঘুদের বসতঘরে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ, ঘটনাস্থল থেকে ব্যানার উদ্ধার

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় গভীর রাতে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে পেট্রোল বা অকটেন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটে ৩০ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রাঙ্গুনিয়া থানাধীন দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর (ঘাগড়াকুল) এলাকার পশ্চিম পালপাড়ার বোয়ার বাড়িতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা একাধিক বসতঘরের দরজা শিকল বা রশি দিয়ে বাইরে থেকে আটকে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের ধোঁয়া ও চিৎকারে গ্রামবাসীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। এতে কয়েকটি ঘর রক্ষা পেলেও একটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।

ঘটনাস্থল থেকে একটি রহস্যজনক ব্যানার উদ্ধার করা হয়, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ কয়েকজনের নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা ছিল। স্থানীয়দের ধারণা, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এই ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে পরিকল্পিত নাশকতা।

মানবাধিকার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

ডিসেম্বরজুড়ে এসব ধারাবাহিক সহিংসতায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। এই ঘটনাগুলো বাংলাদেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেন ও সাধারণ সনাতনীদের ক্ষোভ 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ঘটনার পর ব্যাপক নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সাধারণ সনাতনী ও নেটিজেনরা ঘটনাগুলোকে মানবতা বিরোধী ও নৃশংস আখ্যা দিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অনেকেই লিখেছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে লক্ষ্য করে সহিংসতা চালানো রাষ্ট্র ও সমাজ—উভয়ের জন্যই ভয়ংকর বার্তা বহন করে। একই সঙ্গে নেটিজেনরা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদার করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
ডিসেম্বর ২০২৫: সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য রক্তাক্ত এক মাস
0:00 0:00
1.0x