এদিকে, মানবিক দৃষ্টিকোণ ও সব জাতির মৌলিক মানবাধিকারের স্বার্থে দুর্গত এলাকাগুলোতে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিত তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে। বিশেষ করে কৈলাশ তীর্থযাত্রায় আসা নিখোঁজদের সনাক্তকরণ এবং আধ্যাত্মিক সাধনায় গিয়ে অজানায় হারিয়ে যাওয়া ইউক্রেনীয় পরিবারের মতো বহু বিদেশি নাগরিকের সন্ধান পেতে উদ্ধারকারীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রেড ক্রসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই আকস্মিক দুর্যোগে প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের মন্ত্রীরা তাদের এক মাসের বেতন দুর্যোগ তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সার্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক তীর্থক্ষেত্র অঞ্চলে সংঘটিত এই মানবীয় বিপর্যয় কেবল প্রাকৃতিক ক্ষতি নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সনাতন সম্প্রদায় ও মানবতার নিরাপত্তার ওপর এক গভীর সংকট তৈরি করেছে। নেপাল ও চীন সীমান্তে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আতঙ্ক কাটিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হলেও, নিখোঁজ বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বজনদের মধ্যে এখন কেবলই কান্নার রোল ও প্রিয়জনকে জীবিত ফিরে পাওয়ার করুণ আকুতি দেখা যাচ্ছে।
নেপালে পাহাড়ি ঢলে প্রাণহানি বেড়ে ৬৩০, নিখোঁজ প্রায় ২৫০০
হিমালয়কন্যা নেপালে পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনো নিখোঁজ রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ, যার মধ্যে পবিত্র কৈলাশ তীর্থযাত্রায় গিয়ে নিখোঁজ হওয়া প্রায় ২৯০ জন ভারতীয় সনাতনী দর্শনার্থীও রয়েছেন। শনিবার বিবিসির এক সর্বশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা সত্ত্বেও মৃতের সংখ্যা আরও বহু গুণ বাড়তে পারে। নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের ফলে ওপর থেকে ধেয়ে আসা কাদা, পাথর ও বিশাল ধ্বংসাবশেষের স্রোত নিমেষেই লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে ঘরবাড়ি, আধ্যাত্মিক সাধনা কেন্দ্র এবং যোগাযোগ অবকাঠামো। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তীর্থযাত্রীদের উদ্ধারকাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত