নড়াইলের ভৈরব নদের তীরের একটি সাধারণ গ্রাম থেকে উঠে এসে দেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন মেধাবী চিকিৎসক ডা. শঙ্খমিত্রা পাল। অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ রেসিডেন্সি পরীক্ষায় সারা বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের এমএস (জেনারেল সার্জারি) কোর্সে ভর্তির গৌরব অর্জন করেছেন। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশের প্রতিটি মানুষের মেধা, প্রজ্ঞা ও সংগ্রামের এক উজ্জ্বল ও গৌরবোজ্জ্বল স্বীকৃতি। সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সংখ্যা লঘু কিংবা প্রান্তিক শেকড় থেকে জাতীয় শ্রেষ্ঠত্বের এই শিখরে পৌঁছানো প্রমাণ করে যে, সঠিক মেধা ও অদম্য ইচ্ছা থাকলে কঠোর সাধনার মাধ্যমে বড় স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়া সম্ভব।
তাঁর এই বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল নড়াইলের মান্দিয়া গ্রামের প্রকৌশলী বাবা প্রীতিষ চন্দ্র পালের হাত ধরে। তিনি যশোর সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে অত্যন্ত সফলতার সাথে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর, প্রথমবারেই নিউরোসার্জারিতে এফসিপিএস পার্ট-১ পাস করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অধ্যয়নরত ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি ৪৮তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে সহকারী সার্জন হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। ধর্ম-বর্ণ কিংবা পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিটি নাগরিকের মেধা ও অধিকার নিশ্চিত করার লড়াই এবং সার্বজনীন মানবাধিকারের মূল সুরের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এমন অদম্য মেধাবীরা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াবেন—এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।
News copied from- 'হিন্দুস নিউজ'
ডা. শঙ্খমিত্রার এই সুমহান অর্জন দেশের চিকিৎসা খাতকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি সনাতন সমাজ তথা পুরো জাতির জন্য এক গর্বের স্মারক হয়ে থাকবে। তাঁর এই প্রদীপ্ত যাত্রা আগামী দিনের তরুণ চিকিৎসকদের জন্য এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর হিসেবে কাজ করবে, যা আমাদের শিখিয়েছে ইচ্ছা আর আত্মবিশ্বাসের জোরে প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে কীভাবে জাতীয় পর্যায়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করা যায়।
মতামত