ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশা কিনে নতুনভাবে জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন অনু দে। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই ভয়াবহ হামলা ও লুটের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। তার দাবি, ব্র্যাক ব্যাংক থেকে নেওয়া ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে সিএনজি কেনার উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় ইয়াছিন নগর উৎসবগ্রাম ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় তাকে আটকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে জালাল মাঝির ছেলেসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন অনু দে ও তার বোন।
অনু দে ও তার বোনের ভাষ্য অনুযায়ী, সিএনজি অটোরিকশা কেনার জন্য ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা লোন নিয়েছিলেন অনু। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল নিজের একটি সিএনজি থাকবে এবং সেটি চালিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করবেন। সেই উদ্দেশ্যে লোনের টাকা সঙ্গে নিয়ে সিএনজি কেনার জন্য বের হন তিনি।
তবে ইয়াছিন নগর উৎসবগ্রাম ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছানোর পর কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করে বলে অভিযোগ করেন অনু দে। তার দাবি, জালাল মাঝির ছেলেসহ প্রায় আটজন তাকে ঘিরে ধরে এবং সঙ্গে থাকা পুরো ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
অনু দে আরও দাবি করেন, হামলার সময় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে নিজের জীবন নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়। পরে কোনোভাবে সেখান থেকে বের হয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান বলে তার বক্তব্য।
ঘটনার বিষয়ে অনু দের বোনও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তার ভাষ্য, ভাইয়ের সিএনজি কেনার স্বপ্নকে কেন্দ্র করে ব্যাংক থেকে নেওয়া পুরো ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুধু টাকা লুট নয়, অনু দেকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একজন ব্যক্তি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে সেই অর্থ বিনিয়োগ করতে গিয়ে যদি সত্যিই এ ধরনের হামলা ও লুটের শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বক্তব্য কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যাংকের ঋণের টাকা হারিয়ে বর্তমানে অনু দে আর্থিকভাবে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন বলেও জানা গেছে। সিএনজি কিনে নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার যে পরিকল্পনা করেছিলেন, অভিযোগিত ঘটনার কারণে তা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং অনু দে ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
মতামত