হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই গুরুতর অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন কল্পনার বাবা রামশরণ মিশ্র। পরিবারের সন্দেহ, অস্ত্রোপচারের পূর্বে অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের ফলেই ওই নারীর আর জ্ঞান ফেরেনি এবং তার মৃত্যু তরান্বিত হয়েছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিলে এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চার ঘণ্টা পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বজনদের সাথে দীর্ঘ বৈঠক করেন এবং মরদেহের ময়নাতদন্তের আশ্বাস দেন। প্রাথমিক পদক্ষেপে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই নার্সকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের ভয়াবহ শূন্যতা ও অবকাঠামোগত সংকট সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মৌলিক মানবাধিকারকে কতখানি চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে, এই করুণ ঘটনাটি তা আবারও স্পষ্ট করে দিল।
ওরা আমাকে মেরে ফেলবে"— করুণ আকুতির পরই মারা গেলেন মা ও নবজাতক
ভারতের মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলার সঞ্জয় গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে এক সনাতনী প্রসূতি নারী ও তার নবজাতক সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ২৫ বছর বয়সী কল্পনা মিশ্র নামের ওই নারী নিজের প্রথম সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার চরম উদাসীনতার মুখোমুখি হন। প্রসবের পূর্বে শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা পরিবারের আকুল আবেদন ও অনুরোধে কান দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর ঠিক আগে ধারণ করা একটি হৃদয়বিদারক ভিডিওতে যন্ত্রণায় কাতর ওই নারীকে চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও প্রাণরক্ষার আকুতি জানাতে দেখা যায়। স্বজনদের কাছে যাওয়ার জন্য হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে কাঁদতে থাকা কল্পনাকে বলতে শোনা যায় যে, এভাবে চিকিৎসা চলতে থাকলে তাকে মেরে ফেলা হবে এবং তার জীবন অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। নার্সরা তাকে জোরপূর্বক আটকে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রসূতি ও নবজাতক উভয়েরই জীবনপ্রদীপ নিভে যায়।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত