হিন্দুস নিউজ

রংপুর ৪ খুন: রিমান্ডের বদলে আসামিদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ


| প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুর ৪ খুন: রিমান্ডের বদলে আসামিদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রদ্ধেয় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর ধর্মানুরাগী স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পুরো পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত প্রধান দুই আসামির পুলিশ রিমান্ড নাকচ করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারক রফিকুল ইসলাম আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর না করে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে দুই দিন তিন ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। আদালতের এমন সিদ্ধান্তে সনাতনী সমাজ ও মানবাধিকার কর্মী মহলে চরম হতাশা, ক্ষোভ ও বিচার পাওয়ার অধিকার নিয়ে গভীর সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে চার চারটি তাজা প্রাণ কেড়ে নেওয়ার মতো জঘন্য অপরাধ ঘটেছে, সেখানে আসামিদের মুখোমুখি পুলিশি হেফাজতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ না দেওয়া অপরাধীদের প্রতি এক ধরনের নমনীয়তার বার্তা দেয় বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা।


​উল্লেখযোগ্য যে, গত ২২ আগস্ট রংপুর শহরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় অত্যন্ত পরিচিত ও সম্মানিত সনাতনী ব্যক্তিত্ব, প্রবীণ শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যের রক্তভেজা মরদেহ তাঁদের নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে এবং পুলিশ দাবি করে যে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই চার খুনের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি গ্রেপ্তারকৃতরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

​তবে মামলার এই তদন্ত প্রক্রিয়া ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্নের উদ্রেক ঘটেছে। গ্রেপ্তার আসামিদের ডোপ টেস্ট নিয়ে দেখা গেছে অদ্ভুত অবহেলা ও গড়িমসি। গ্রেপ্তারের প্রায় আট দিন পর ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন পর ল্যাব পরীক্ষা করা হলে পরীক্ষায় মাদকের কোনো উপস্থিতি মেলেনি। রংপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা না থাকার অজুহাতে চুল ও রক্তের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সনাতনী অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলোর মতে, হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি নিরপরাধ পরিবারকে নির্মমভাবে মুছে ফেলার পেছনে কেবল সাধারণ কলহ নাকি কোনো গভীর চক্রান্ত বা সাম্প্রদায়িক টার্গেট রয়েছে, তা উদঘাটনে নিবিড় রিমান্ড অত্যন্ত জরুরি ছিল। রিমান্ড নাকচ হওয়ার ফলে বিচার প্রক্রিয়ায় চরম গাফিলতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং সংখ্যালঘু সনাতনী পরিবারের মানবাধিকার সুরক্ষা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুনিশ্চিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে দেশের সনাতনী জনগোষ্ঠী তাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


রংপুর ৪ খুন: রিমান্ডের বদলে আসামিদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রদ্ধেয় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর ধর্মানুরাগী স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পুরো পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত প্রধান দুই আসামির পুলিশ রিমান্ড নাকচ করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারক রফিকুল ইসলাম আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর না করে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে দুই দিন তিন ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। আদালতের এমন সিদ্ধান্তে সনাতনী সমাজ ও মানবাধিকার কর্মী মহলে চরম হতাশা, ক্ষোভ ও বিচার পাওয়ার অধিকার নিয়ে গভীর সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে চার চারটি তাজা প্রাণ কেড়ে নেওয়ার মতো জঘন্য অপরাধ ঘটেছে, সেখানে আসামিদের মুখোমুখি পুলিশি হেফাজতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ না দেওয়া অপরাধীদের প্রতি এক ধরনের নমনীয়তার বার্তা দেয় বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা।


​উল্লেখযোগ্য যে, গত ২২ আগস্ট রংপুর শহরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় অত্যন্ত পরিচিত ও সম্মানিত সনাতনী ব্যক্তিত্ব, প্রবীণ শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যের রক্তভেজা মরদেহ তাঁদের নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে এবং পুলিশ দাবি করে যে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই চার খুনের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি গ্রেপ্তারকৃতরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

​তবে মামলার এই তদন্ত প্রক্রিয়া ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্নের উদ্রেক ঘটেছে। গ্রেপ্তার আসামিদের ডোপ টেস্ট নিয়ে দেখা গেছে অদ্ভুত অবহেলা ও গড়িমসি। গ্রেপ্তারের প্রায় আট দিন পর ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন পর ল্যাব পরীক্ষা করা হলে পরীক্ষায় মাদকের কোনো উপস্থিতি মেলেনি। রংপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা না থাকার অজুহাতে চুল ও রক্তের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সনাতনী অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলোর মতে, হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি নিরপরাধ পরিবারকে নির্মমভাবে মুছে ফেলার পেছনে কেবল সাধারণ কলহ নাকি কোনো গভীর চক্রান্ত বা সাম্প্রদায়িক টার্গেট রয়েছে, তা উদঘাটনে নিবিড় রিমান্ড অত্যন্ত জরুরি ছিল। রিমান্ড নাকচ হওয়ার ফলে বিচার প্রক্রিয়ায় চরম গাফিলতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং সংখ্যালঘু সনাতনী পরিবারের মানবাধিকার সুরক্ষা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুনিশ্চিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে দেশের সনাতনী জনগোষ্ঠী তাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
রংপুর ৪ খুন: রিমান্ডের বদলে আসামিদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ
0:00 0:00
1.0x