সপ্তরি থেকে কাঠমান্ডু পর্যন্ত ২৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে লেগে যায় দীর্ঘ নয় ঘণ্টা। রাজধানী কাঠমান্ডুতে পৌঁছে একের পর এক হাসপাতাল ও মর্গে গিয়ে লাশের ছবি ঘেঁটেও বিনোদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। (News copied from- 'हिंदुस न्यूज़') কাঠমান্ডু থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে নুয়াকোটের দিকে পায়ে হেঁটে রওয়ানা দেন তাঁরা। কাদা আর ধ্বংসাবশেষে ঢাকা পথ পেরিয়ে ত্রিশুলি শহরে পৌঁছালেও পদে পদে তাঁদের পড়তে হয়েছে নানা বাধার মুখে। রাত যাপনের জন্য চরম মূল্যে সামান্য আশ্রয় ও খাদ্য পেতেই নিঃশেষ হতে বসেছে তাঁদের সমস্ত অর্থ। অর্থ ফুরিয়ে গেলে বাড়ি ফেরার পথও বন্ধ হয়ে যাবে এমন আশঙ্কায় রাত কাটাচ্ছেন এই অসহায় পিতা।
দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, মানবিক এই সংকটের মুহূর্তেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসেবে চরম বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের। তালকা সদা অভিযোগ করেছেন, তেরাই অঞ্চলের মাধেশি ও প্রান্তিক মুসাহার সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ায় উদ্ধারকারী ক্যাম্প ও মর্গে তাঁদের সঠিকভাবে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বা সহযোগিতা করা হচ্ছে না। নেপালি ভাষায় সাবলীল না হওয়ার অজুহাতে প্রশাসনিক ও উদ্ধারকারী দপ্তরগুলো থেকে তাঁদের ক্রমাগত ঘুরানো হচ্ছে। প্রান্তিক ও দলিত শ্রেণির মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার এবং স্বজনদের খোঁজার ন্যূনতম মানবাধিকারটুকু যেভাবে পদদলিত হচ্ছে, তা বিশ্ববিবেকের কাছে এক বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে। সন্তান বেঁচে আছে নাকি মৃত, তা জানার এবং সন্তানের শেষ মুখটি দেখার অধিকার যে কোনো মানুষের মৌলিক অধিকার। বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ও নিখোঁজের এই মানবিক বিপর্যয়ে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামোর বৈষম্যমূলক আচরণ কেবল ধিক্কারজনকই নয়, চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনও বটে।
মতামত