পরিবারের আর্থিক অভাব-অনটন দূর করে একটু সচ্ছলতার মুখ দেখার বড় আশা নিয়ে ধারদেনা করে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন তরুণ শুভ। অথচ সেই আশা আর স্বপ্ন আজ নিঃশেষ হয়ে গেল এক নির্মম কফিনবন্দী লাভে। স্বজনদের অপেক্ষার প্র প্রহর কেটে বুকফাটা আর্তনাদ আর কান্নায় একাকার এখন সাতক্ষীরার কলারোয়ার শুভদের বাড়ি। মধ্যপ্রাচ্যের চরম যুদ্ধাঞ্চলের আতঙ্কের মধ্য থেকে শেষ পর্যন্ত প্রাণহীন দেহ হয়েই দেশে ফিরতে হলো এই সনাতনী তরুণকে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির সামরিক পরিস্থিতি এবং ইসরায়েল সীমান্তের তীব্র উত্তেজনার কারণে এই বিয়োগান্তক ঘটনাটি ঘটেছে। কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম জানান, শুভ যে এলাকায় কর্মরত থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, সেটি ইসরায়েল সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত। যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে সেখানে উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে যেমন চরম বিলম্ব হয়, তেমনি যুদ্ধকালীন জটিলতার কারণে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠাতেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ও সংঘাতের এই বলি হয়ে আরেকজন খেটে খাওয়া প্রবাসীর জীবনপ্রদীপ নিভে যাওয়া মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকেও চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সরকারের উচিত এই দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থানরত প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রবাসীদের জীবনের অধিকার রক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
অসহায় স্বজনদের পাশে দাঁড়াতে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি আর্থিক সহায়তা শুরু করেছে। বিমানবন্দর থেকে প্রবাসীর পরিবার ইতোমধ্যে পঁচাশির হাজার টাকার প্রাথমিক সহায়তা গ্রহণ করেছে। পরবর্তীতে তাঁর বিএমইটি নিবন্ধন ও বিদেশ যাত্রার তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী শুভ যদি ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারির পর বৈধ পথে বিদেশ গিয়ে থাকেন, তবে তাঁর পরিবার এককালীন মোট ১৩ লাখ টাকা সরকারি অনুদান হিসেবে পাবে। আর যদি তাঁর বিদেশ যাত্রা ২০২৩ সালের আগের হয়ে থাকে, তবে সহায়তার পরিমাণ হবে ৩ লাখ টাকা। উপজেলা প্রশাসন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সনাতনী পরিবারটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
মতামত