রংপুর নগরীর কামাল কাছনা এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নতুন তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস যার কাছ থেকে ইয়াবা ক্রয় করেছিলেন, সেই শান্ত দাস ওরফে পুঁটি শান্ত আদালতে সাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। রবিবার বিকেলে রংপুর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় শান্ত দাসের এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা হত্যাকাণ্ডের পূর্বে ও পরে কতোটা নির্মম ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল, তা এই জবানবন্দির মাধ্যমে আরও স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছিল যে, চার খুনের সেই অভিশপ্ত রাতে অভিযুক্তরা মোট নয়টি ইয়াবা সেবন করেছিল। ইয়াবা ক্রয়ের জন্য নগদ অর্থ না থাকায় সিদ্ধার্থ দাস নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কামাল কাছনার মাদক কারবারি শান্ত দাস ওরফে পুঁটি শান্তর নিকট বন্ধক রাখেন। জবানবন্দিতে অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ঘটনার রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ প্রতিবেশী বন্ধু সীমান্তের বাসায় বসে প্রথমে তিনটি ইয়াবা সেবন করে। পরবর্তীতে গভীর রাতে আবারও মাদক সেবনের তীব্র ব্যাকুলতা তৈরি হলে তারা শান্তর সাথে যোগাযোগ করে আরও চারটি ইয়াবা সংগ্রহ করে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের পর সনাতনী শিক্ষক পরিবারটির এই করুণ পরিণতিতে পুরো নগরজুড়ে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের পাশাপাশি মাদকের জোগানদাতা পুঁটি শান্ত আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে নগরী থেকেই আটক করে এবং সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির করে। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ জবানবন্দি মামলার বিচার কার্যক্রমে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে পুঁটি শান্তর নিকট তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অবৈধ মাদক না পাওয়ায় তাকে পরিবারের নিকট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে মহানগর পুলিশ। সনাতনী সমাজসহ সর্বস্তরের নাগরিক এখন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রহর গুনছেন।
মতামত