সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন শিক্ষকের কাছে ফোন করে চাঁদা দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অধ্যাপক পরেশ কুমার, দেবাশীষ রায়, নিলয় কুমার সাহা, সজল কান্তি বিশ্বাস, প্রদীপ কুমার সাহাসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক একই ধরনের ফোন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল থেকে দুপুরের মধ্যেই তাঁদের মোবাইল ফোনে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে চাঁদা দাবি করা হয় বলে তাঁরা জানিয়েছেন। একই ধরনের ঘটনায় একাধিক শিক্ষককে টার্গেট করায় তাঁদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, ফোন করে চাঁদা দাবি করার পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে এক ধরনের চাপ ও আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নাকি পরিকল্পিতভাবে একই কৌশলে একাধিক শিক্ষককে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় অধ্যাপক পরেশ কুমার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দাবি, এ ধরনের ফোনকলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে এর পেছনে কারা রয়েছে তা শনাক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষকসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্নভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরির অভিযোগ সামনে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষকদের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকের আশঙ্কা, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মনোবল দুর্বল করার চেষ্টা করা হতে পারে।
তবে ফোন করে চাঁদা দাবির ঘটনাগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য কী—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত