সনাতনী সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব রক্ষা, অধিকার প্রতিষ্ঠা, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)-এর জেলা শাখার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএসপির সদস্য সচিব মনোদ্বীপ কুমার মণ্ডল। পবিত্র গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়।
সভায় কারাবন্দি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মাতা সন্ধ্যা রানী ধর গত বৃহস্পতিবার মৃত্যুবরণ করায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে সম্প্রতি বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সনাতনী সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বর্ধিত সভায় সাতক্ষীরা জেলার সব উপজেলা কমিটি দ্রুত গঠন করে জেলা পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতৃত্বকে ঐক্যবদ্ধ করা, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের বিস্তার ঘটানো এবং সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাংলাদেশ সনাতন পার্টির অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া এবং যোগ্য নেতৃত্বকে সামনে আনার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ।
বর্ধিত সভায় সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় সনাতন সম্প্রদায়ের মন্দির ও দেবোত্তর সম্পত্তির জমি উদ্ধারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে শ্যামনগরের ঐতিহাসিক যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরের জমি উদ্ধার ও জবরদখলমুক্তকরণ, জোড়া শিবমন্দিরের ৬৬ বিঘা জমি উদ্ধার, ঝাউডাঙা জগন্নাথদেব মন্দিরের জায়গা উদ্ধার এবং দেবহাটার পাইকপাড়ার রাধাগোবিন্দ মন্দিরের জমি উদ্ধারের বিষয় সভায় উঠে আসে।
এছাড়া বিএসপির সদস্য সমীরণ চক্রবর্তীর জবরদখলকৃত জমিসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে সনাতন সম্প্রদায়ের যেসব জমি জবরদখলের অভিযোগ রয়েছে, সেসব জমি প্রশাসনের সহযোগিতা ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ধারের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি আইনগতভাবে বিষয়গুলো মোকাবিলা করার ওপর জোর দেন সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।
আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করা, সনাতন সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ধর্মান্তর রোধে সামাজিক ও সাংগঠনিকভাবে করণীয় নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক যোগাযোগ জোরদার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংগঠনকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি রসিদের মাধ্যমে নিয়মিত মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করে সাংগঠনিক ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী সংগঠন পরিচালনার জন্য সাংগঠনিক কাঠামোর পাশাপাশি নিয়মিত আর্থিক ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় আগামী ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি) কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত ঢাকার প্রতিনিধি সম্মেলনে সাতক্ষীরা জেলা থেকে ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। এ জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন মিহির কান্তি সরকার, মনোদ্বীপ কুমার মণ্ডল, তপন কুমার ঘোষ, পরিতোষ কুমার গাইন, প্রতিমা রানী হালদার, সমীর দাশ, প্রশান্ত পাল, ধীমান সরকার, প্রকাশ সরকারসহ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, সনাতনী সম্প্রদায়ের অধিকার ও অস্তিত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ সাংগঠনিক শক্তির কোনো বিকল্প নেই। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সনাতনী সম্প্রদায়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনগত, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। একই সঙ্গে মন্দির ও দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষা, নির্যাতন প্রতিরোধ এবং সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
মতামত