সংবাদটির সত্যতা নিশ্চিত করতে পরবর্তীতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ সরাসরি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত জৈন ধর্মযাজকের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। সেখানে ধর্মযাজক নিজেই স্পষ্ট করে জানান যে তাঁর হাত থেকে দেওয়া ডকুমেন্টটি নিচে পড়ে যাওয়ায় মানবিক ও সৌজন্যমূলক খাতিরেই পেজেশকিয়ান নিচু হয়ে সেটি তুলে নেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেকোনো ধর্ম, প্রথা বা জাতির প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা যেমন মানবাধিকারের অংশ, তেমনি সত্যকে আড়াল করে বিভ্রান্তি ছড়ানোও অনুচিত। সামগ্রিক বিচারে, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মাধ্যমে যে দাবি করা হচ্ছিল তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।
ইরানের প্রেসিডেন্ট কি আসলেই পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছেন সনাতনী ধর্মগুরুকে?
ব্রিকস সম্মেলন পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে নানা বিভ্রান্তি ও ভুল ব্যাখ্যা। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, সম্মেলন শেষে ভারতের এক হিন্দু সনাতনী ধর্মগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উদারতার প্রতীক হিসেবে ভিডিওটি বহু সামাজিক অ্যাকাউন্টে প্রচারিত হলেও প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন তথ্য। সত্যতা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা যায়, কোনো ধর্মীয় প্রথা পালন বা প্রণামের ঘটনা এখানে ঘটেনি।
অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, অনুষ্ঠান চলাকালীন জৈন ধর্মযাজকের দেওয়া একটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা ডকুমেন্ট দুর্ঘটনাবশত ইরানের প্রেসিডেন্টের হাত থেকে নিচে পড়ে যায়। সেই কাগজটি মাটি থেকে কুড়িয়ে নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং উক্ত ধর্মগুরু—উভয়েই একই সময়ে একসাথে নিচের দিকে ঝুঁকেছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তটির একটি অংশ কেটে বা অপব্যাখ্যা করে একশ্রেণির নেটিজেন এটিকে 'পা ছুঁয়ে প্রণাম' করার দৃশ্য বলে প্রচার শুরু করেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা ও ‘ইসমাট টিভি’র মতো মাধ্যমগুলো জানায়, এটি কেবলই পড়ে যাওয়া একটি নথি কুড়িয়ে নেওয়ার স্বাভাবিক ঘটনা ছিল, যা কেবল ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে ছড়ানো হয়েছে।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত