উচ্চ বেতনের করপোরেট চাকরি ছেড়ে নিজের শহরে মাত্র ১০×১০ ফুটের একটি ছোট কিয়স্ক দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন ভারতের উদ্যোক্তা প্রদীপ কান্নান। আজ তাঁর সেই উদ্যোগ ‘দ্য ফালুদা শপ’ ভারতের পাশাপাশি দুবাইতেও বিস্তৃত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ব্র্যান্ডটির বার্ষিক রাজস্ব ৯ কোটি রুপির বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রদীপ কান্নান কর্মজীবনের একপর্যায়ে ওরাকলে কাজ করতেন। স্থিতিশীল করপোরেট ক্যারিয়ার থাকা সত্ত্বেও নিজের কিছু করার স্বপ্ন থেকে ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে নিজ শহর তামিলনাড়ুর কারুরে ফিরে যান। সেখানেই ফালুদা ও আইসক্রিমভিত্তিক ব্যবসার যাত্রা শুরু করেন তিনি।
তাঁর লক্ষ্য ছিল প্রচলিত ফালুদাকে শুধু একটি সাধারণ মিষ্টান্ন হিসেবে না দেখে আধুনিক ও ব্র্যান্ডেড ডেজার্ট হিসেবে তুলে ধরা। ছোট কিয়স্ক থেকেই শুরু হয় সেই পরিকল্পনা।
শুরুটা ছোট হলেও ব্যবসার মডেল ছিল বড় পরিসরে সম্প্রসারণের উপযোগী। ফালুদার স্বাদ ও উপকরণের মান এক রাখার পাশাপাশি রেসিপি ও প্রস্তুতপ্রণালিকে নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসেন প্রদীপ। এর ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে একের পর এক নতুন আউটলেট চালু করা সহজ হয়।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দ্য ফালুদা শপের ১৮টি আউটলেটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি দুবাইয়েও রয়েছে এর উপস্থিতি। একই সঙ্গে উত্তর ভারতে নতুন আউটলেট সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও সামনে এসেছে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্র্যান্ডটি শুধু প্রচলিত ফালুদায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিভিন্ন ধরনের ফালুদা, আইসক্রিম, মিল্কশেকসহ তরুণ প্রজন্মের উপযোগী নতুন ডেজার্ট পণ্যও যুক্ত হয়েছে।
একসময় যে ব্যক্তি করপোরেট চাকরিতে স্থিতিশীল ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছিলেন, তিনিই নিজের স্বপ্নকে অনুসরণ করে ছোট একটি কিয়স্ক থেকে শুরু করেন ব্যবসা। সেই উদ্যোগই কয়েক বছরের মধ্যে পরিণত হয়েছে একাধিক আউটলেটের একটি ডেজার্ট ব্র্যান্ডে।
মতামত