ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ১৫ নম্বর ফুলহরি ইউনিয়নে মিষ্টি বাকি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ‘সুব্রত দধি মিষ্টি ভান্ডার’-এর মালিক সুব্রত বাবু ও তাঁর বৃদ্ধা মায়ের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সুব্রত বাবু।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এর আগেও কয়েকবার জোরপূর্বক তাঁর দোকান থেকে দধি নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ আবারও কয়েকজন ব্যক্তি দোকানে এসে জোর করে দধি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সুব্রত বাবু বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার সময় তাঁর বৃদ্ধা মায়ের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে।
সুব্রত বাবু গণমাধ্যমকে বলেন, এর আগেও জোর করে তাঁর কাছ থেকে দধি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আজও একইভাবে এসে দধি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তাঁকে ও তাঁর বৃদ্ধা মায়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর থেকে তাঁর পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তিনি এ ঘটনার প্রতিকার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা। তাঁদের ভাষ্য, একজন ব্যবসায়ী নিজের পণ্য বাকি বা বিনামূল্যে দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ওপর হামলা চালানোর ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে সুব্রত বাবুর বৃদ্ধা মায়ের ওপর হামলার অভিযোগকে তাঁরা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
সুব্রত বাবুর প্রায় শতবর্ষ বয়সী বৃদ্ধা মা ঘটনার পর আক্ষেপ করে বলেন, “এই দেশে এই বয়সে এসেও যদি মার খেতে হয়, তাহলে এই দেশে আর থাকব কীভাবে!”
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে জোরপূর্বক পণ্য নেওয়া এবং বাধা দেওয়ায় হামলা চালানোর অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁরা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সুব্রত বাবু ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তার বিষয়েও প্রশাসনের কার্যকর নজর দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মতামত