আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবকে নির্বিঘ্ন, আনন্দমুখর এবং সুরক্ষিত করতে সরকারি অনুদান বিতরণের পাশাপাশি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে নাটোরে। বৃহস্পতিবার নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলার সনাতনী মন্দির সমূহে সরকারি অনুদানের চাল বিতরণকালে এক আবেগঘন এবং কঠোর বার্তা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। উপস্থিত সনাতনী সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, যতদিন তিনি বেঁচে আছেন, ততদিন এলাকার হিন্দু ভাইবোনদের কোনো ভয়ে সংকুচিত হয়ে থাকার প্রয়োজন নেই; বরং প্রতিটি সনাতনী নাগরিক পূর্ণ মর্যাদা ও বুক উঁচু করে নিজ ভূখণ্ডে বসবাস করবেন। সনাতনীদের নিরাপত্তা বিধান এবং তাদের অধিকার রক্ষায় সংসদ সদস্যের এই দৃঢ় প্রতিশ্রুতি স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে গভীর আশার সঞ্চার করেছে।
(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
অনুষ্ঠানে এমপি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। যেকোনো ধরনের বৈষম্য, হুমকি বা অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে হুইপ বলেন, সনাতনীদের দিকে কেউ বাঁকা চোখে তাকালে বা হুমকি-ধমকি দিলে সরাসরি তাঁকে টেলিফোনে অবহিত করতে। ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গেই তাৎক্ষণিক ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও সর্বজনীন মানবাধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে হিন্দু-মুসলমানের মাঝে কোনো বিভেদ ছিল না এবং ঈদ ও পূজার মতো ধর্মীয় উৎসবগুলোতে একে অপরের আনন্দ ভাগাভাগির সুন্দর ঐতিহ্য ছিল। সনাতনীদের অধিকার ও সম্মান রক্ষা করে সেই সম্প্রীতির অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে নাটোর সদরের ৮২টি এবং নলডাঙ্গার ৫৯টি মন্দিরের প্রতিটির জন্য ৬০০ কেজি করে মোট বিপুল পরিমাণ সরকারি অনুদানের চাল বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এই আয়োজনটি সনাতনী সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
মতামত