হিন্দুস নিউজ
Topic Ads 1
জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পুজো কমিটিকে অনুদান কেন? হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা

জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পুজো কমিটিকে অনুদান কেন? হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা

রাজ্যের সাধারণ মানুষের করের টাকায় নির্মিত রাজস্ব কেন দুর্গাপুজো কমিটিগুলোর কাছে অনুদান হিসেবে বিতরণ করা হবে, তা নিয়ে আবারো জোর বিতর্ক শুরু হলো। ক্ষমতার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও সরকারি কোষাগারের অর্থ উৎসবের নামে বিলিয়ে দেওয়ার এই পুরোনো সংস্কৃতি কেন জিইয়ে রাখা হচ্ছে—সেই গুরুতর প্রশ্ন তুলে এবার কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হলো। মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী আদালতে স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পরও জনগণের কষ্টের উপার্জিত করের টাকা দিয়ে এইভাবে পুজো কমিটিগুলোকে একের পর এক অনুদান দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। বিগত দিনে আদালতের তরফে পুজোর অনুদান দেওয়া সংক্রান্ত যে সুনির্দিষ্ট নির্দেশাবলি ও বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, রাজ্য সরকার নাকি সেই আদালতের রায়কেও তোয়াক্কা না করে মান্যতা দেয়নি। উল্টে আগের মতোই সরকারি কোষাগারের টাকা অনুদান হিসেবে বিলিয়ে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিকে বহাল রাখা হয়েছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​এমতাবস্থায় অনুদান বণ্টন প্রক্রিয়ার ওপর অবিলম্বে স্থগিতাদেশ দেওয়া বা বিষয়টির আইনি নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে মামলাকারীর আইনজীবী উচ্চ আদালতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। তবে মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করলেও আদালত আপাতত এই মুহূর্তেই দ্রুত শুনানির সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে যে, আসন্ন দুর্গাপুজো পর্ব শেষ হওয়ার পরেই আদালতে নিয়মমাফিক ও বিস্তারিতভাবে এই মামলার শুনানি গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলের পর এই প্রথম সার্বজনীন দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মহালয়ার পুণ্য লগ্ন থেকে শুরু করে বিজয়া দশমী পর্যন্ত সনাতনী সংস্কৃতির সর্ববৃহৎ এই মহাসমারোহকে ঘিরে রাজ্য জুড়ে নানাবিধ প্রশাসনিক ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নতুন সরকার। শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার পূর্ববর্তী অনুদানের পরিমাণ থেকে ১০ হাজার টাকা হ্রাস করলেও, পুজো কমিটিগুলোকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার ধারাটি অবশ্য বন্ধ করেনি। তবে সরকারের তরফ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ আবেদন রেখেছিলেন—রাজ্যের বড় বাজেটের ঐতিহ্যবাহী পুজো কমিটিগুলো যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই সরকারি অনুদান গ্রহণ না করে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই ইতিবাচক আহ্বান ও মানবিক আর্জিতে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যে রাজ্যের একাধিক বড় ও হেভিওয়েট পুজো কমিটি সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।  

দুর্গাপূজায় বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা, হুঁশিয়ারি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

‘ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার’—এই মূলনীতিকে পাথেয় করে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব নাগরিকের সমান ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ধর্মীয় উসকানি, চক্রান্ত কিংবা পূজা-অর্চনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেশের শান্ত পরিবেশ ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড় জেলার বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলায় আসন্ন দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত পৃথক জিআর চালের ডিও বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই বার্তা প্রদান করা হয়। সকল জাতির মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয় যে, বর্তমান বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করার পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার এই ধারাবাহিকতায় পূজা উদযাপনে যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিশেষ স্বেচ্ছাসেবী টিমও মাঠে তৎপর থাকবে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') পঞ্চগড়ের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে আশ্বস্ত করে জানান হয়, পূজা মণ্ডপগুলোর সার্বিক সুরক্ষায় আট হাজার স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন, যারা দিনরাত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে প্রশাসনিক সহায়তার পাশাপাশি নিরাপত্তা ছাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বোদা উপজেলার ৯৬টি এবং দেবীগঞ্জ উপজেলার ১১৭টি পূজামণ্ডপের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে সরকারি সহায়তার জিআর চালের ডিও আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের প্রতিনিধিরা এই আয়োজনে উপস্থিত থেকে সনাতন সম্প্রদায়ের অধিকার ও সার্বিক নিরাপত্তায় ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

দুর্গাপূজায় বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা, হুঁশিয়ারি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে গভীর রাতে ৩ প্রতিমা ভাঙচুর

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ আর প্রাক-প্রস্তুতির আবহ যখন সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের ঘরে ঘরে, ঠিক তখনই কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক জঘন্য ঘটনার শিকার হয়েছে স্থানীয় একটি মন্দির। সর্বজনীন ধর্মীয় উৎসবের ঠিক আগমুহূর্তে সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনে মধ্যরাতে এই প্রতিমা ভাঙচুরের তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতকারীরা।​সংবাদ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার পর কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। রাতের গভীর অন্ধকারে অশুভ উদ্দেশ্যে মন্দিরের সীমানায় প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে নির্মিত নির্মাণাধীন ও প্রস্তুতকৃত তিনটি প্রতিমা ব্যাপকভাবে ভাঙচুর ও ক্ষতিগ্রস্ত করে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার এবং সকল জাতি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ধিক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে চরম ক্ষোভ, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। সর্বজনীন ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের এমন অপচেষ্টার বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সর্বস্তরের সনাতনী ও মানবাধিকার সচেতন নাগরিকেরা।

খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে গভীর রাতে ৩ প্রতিমা ভাঙচুর

বাসুদেব অনাথ আশ্রমে দেবশিশুদের অশ্রুসজল পিতৃতর্পণ

সনাতন ধর্মের সুপ্রাচীন ও পরম পবিত্র ঐতিহ্য অনুযায়ী ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনের মহালয়া অমাবস্যা পর্যন্ত সময়কাল পরিচিত পিতৃপক্ষ বা প্রেতপক্ষ হিসেবে। লোকবিশ্বাস ও শাস্ত্রীয় বিধি অনুযায়ী, এই বিশেষ তিথিতে তর্পণ ও জলার্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে পরম শ্রদ্ধা ও আকুল কৃতজ্ঞতায় স্বর্গীয় পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা হয়। তবে চিরাচরিত এই শাস্ত্রীয় আচার পালনের মাঝেই আজ এক অভূতপূর্ব, বেদনাময় ও পরম মানবিক দৃশ্যের সাক্ষী হলো ‘শ্রীশ্রী বাসুদেব অনাথ আশ্রম’।আজ পিতৃপক্ষের বিশেষ লগ্নে আশ্রম প্রাঙ্গণে এক পরম ভাবগম্ভীর ও হৃদয়স্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শৈশবেই নিয়তির নিষ্ঠুর কষাঘাতে বাবা-মাকে হারানো আশ্রমের মাতৃহীন ও পিতৃহীন নিষ্পাপ দেবশিশুরা আজ একসাথে সমবেত হয়েছিল। কচি কচি হাতে জল অঞ্জলি তুলে দিয়ে তারা স্মরণ করেছে তাঁদের প্রয়াত পিতামাতা ও পূর্বপুরুষদের।ছবি:সংগৃহীত সাধারণত যে বয়সে এই অবোধ শিশুদের মায়ের মমতাময়ী কোলে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকার কথা, বাবার শক্ত হাত ধরে বাইরের জগতকে চেনার কথা, জীবনসংগ্রামের নির্দয় বাস্তবতা তাদের সেই অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মা-বাবার স্নেহের পরশ থেকে বঞ্চিত এই ছোট ছোট হাতগুলো যখন আজ তর্পণের জল অঞ্জলি দিচ্ছিল, তখন সমগ্র আশ্রম প্রাঙ্গণ ও চারপাশের বাতাস এক গভীর করুণতায় ভারী হয়ে উঠেছিল। উপস্থিত প্রতিটি মানুষের চোখে জল এবং হৃদয় এক অপরসীম বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে।আশ্রম কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে ও পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত ভাবগম্ভীরভাবে সম্পন্ন হয়। মন্ত্রের ছন্দে ও জলের ছিটেয় শিশুরা হারিয়ে গিয়েছিল এক অজানা আবেগে। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুদের এই পিতৃতর্পণ কেবল কোনো বাঁধাধরা শাস্ত্রীয় নিয়ম পালন বা আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; এটি ছিল জন্মদাতা মাতাপিতার প্রতি অবোঝ মনগুলোর এক চিরন্তন, আকুল ও করুণ আকুতি।নিঃসঙ্গতা ও অনাথ জীবনের সব কষ্টকে দূরে ঠেলে দিয়ে, নিজেদের নিষ্পাপ মনের সমস্ত ভালোবাসা ও শুদ্ধ ভক্তি উজাড় করে দিয়েছিল তারা। এই কচি প্রাণগুলোর অশ্রুসজল প্রার্থনা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি আজকের দিনে পিতৃতর্পণের আবহকে এনে দিয়েছে এক অনন্য, পরম মানবিক ও গভীর পবিত্র মাত্রা, যা সেখানে উপস্থিত প্রতিটি হৃদয়ে এক দীর্ঘস্থায়ী রেখাপাত করে গেছে।

বাসুদেব অনাথ আশ্রমে দেবশিশুদের অশ্রুসজল পিতৃতর্পণ

বগুড়ায় ৭৩১ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, মৃৎশিল্পীদের নিরলস সংগ্রাম

মহালয়ার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি, আর এরই মধ্যে ঐতিহ্যবাহী শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়া। সনাতনী সংস্কৃতির সর্ববৃহৎ এই উৎসবকে ঘিরে জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির কারখানায় এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। মা দুর্গাকে বরণ করে নিতে মৃৎশিল্পীরা দিন-রাত এক করে নিপুণ হাতে মাটির প্রলেপ দিচ্ছেন, আবার কোথাও চলছে রং ও অলংকরণের কাজ। পঞ্জিকা মতে, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হবে এবং ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসব। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গার নৌকায় গমনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই শারদীয় মহা মিলনমেলা। সনাতনীদের আরাধনার এই মহা প্রহরে শহরের উত্তর চেলোপাড়াসহ বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে দেখা যায় কারিগরদের নিরলস পরিশ্রমের চিত্র। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জা, প্রবেশদ্বার নির্মাণ এবং আলোকসজ্জার কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা।​উৎসবের এই আমেজ ছড়িয়ে পড়লেও কাঁচামাল ও কারিগরদের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা চাপের মুখে পড়েছেন প্রতিমা শিল্পীরা। পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য মতে, গত বছরের চেয়ে এবার বগুড়ায় মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩১টিতে দাঁড়িয়েছে, যা সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উন্মাদনা ও ঐতিহ্য রক্ষার অদম্য প্রয়াসকেই তুলে ধরে। উৎসবকে শান্তিময় ও নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে সনাতনীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন মূল দাবি। জেলা প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভক্তদের সুবিধার্থে ও সার্বিক সহায়তায় সরকারি পর্যায় থেকে ৭৩০টি মণ্ডপের জন্য ৪৩৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সকল শঙ্কা কাটিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুষ্ঠু নজরদারি ও প্রশাসনের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন তাদের সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিরাপদে উদযাপিত করতে পারেন, এখন বগুড়াজুড়ে শুধুই সেই প্রত্যাশা। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সার্বিক প্রস্তুতি আর ভক্তদের আরাধনার অপেক্ষায় ঢাকের বাদ্যি ও শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হওয়ার প্রহর গুনছে বগুড়ার পূজামণ্ডপগুলো।

বগুড়ায় ৭৩১ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, মৃৎশিল্পীদের নিরলস সংগ্রাম

পাহাড়ে প্রতিটি দুর্গা মণ্ডপে পাহারায় থাকবে বিএনপি: সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ঘোষণা পার্বত্য মন্ত্রী জেরী'র

​সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সার্বজনীন আনন্দ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপনের লক্ষ্যে বান্দরবানের সকল পূজামণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিং প্রু জেরী জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকেরা যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। বান্দরবান জেলার সাতটি উপজেলা এবং দুটি পৌরসভার বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সনাতনীদের নিরাপত্তা রক্ষা ও উৎসবের সার্বিক সহযোগিতায় যেকোনো প্রয়োজনে বিএনপি নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক পাশে থাকবে বলে জানান তিনি। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবাধিকার রক্ষায় বান্দরবানের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এ ধরনের প্রস্তুতি স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে। সাচিং প্রু জেরীর এই আহ্বানের ফলে জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে পাহাড়ি-বাঙালি ও সকল জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রীতির এক চমৎকার পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে, যা পার্বত্য অঞ্চলের আবহমান সামাজিক সৌহার্দ্য ও সকল মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পাহাড়ে প্রতিটি দুর্গা মণ্ডপে পাহারায় থাকবে বিএনপি: সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ঘোষণা পার্বত্য মন্ত্রী জেরী'র

দুর্গাপূজা:ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারায় শুদ্ধতার প্রত্যয়।

শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালির ধর্মীয় বিশ্বাস, লোকঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য সম্মিলন। দেবী দুর্গার মহিষাসুরবধের পৌরাণিক আখ্যানের মধ্য দিয়ে অশুভের ওপর শুভের বিজয়ের যে বার্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে দুর্গাপূজা আজ কেবল ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি পরিণত হয়েছে মানুষের মিলন, সংস্কৃতিচর্চা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক অংশগ্রহণের বৃহৎ উৎসবে। বাংলার দুর্গোৎসবকে ধর্মীয় আচার, সামাজিক অনুশীলন, উৎসব ও পরিবেশনশিল্পের সমন্বিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।বাংলার দুর্গাপূজার ঐতিহ্য বহু শতাব্দীপ্রাচীন। একসময় জমিদার ও বনেদি পরিবারকেন্দ্রিক পূজার প্রচলন থাকলেও ক্রমে তা সর্বজনীন রূপ লাভ করে। আজ শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বজনীন দুর্গোৎসব মানুষের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ উৎসব হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সম্প্রীতির অন্যতম মাধ্যম।দুর্গোৎসবের প্রতিটি পর্বের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের আবাহন, ষষ্ঠীর বোধন, সপ্তমীর নবপত্রিকা, অষ্টমীর অঞ্জলি ও সন্ধিপূজা, নবমীর হোম-যজ্ঞ এবং দশমীর বিসর্জন—সব মিলিয়ে গড়ে উঠেছে একটি সুসংবদ্ধ আচারপরম্পরা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এসব আচার বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিল্প ও সংস্কৃতিদুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বাংলার শিল্প-সংস্কৃতিরও বড় একটি ক্ষেত্র। মৃৎশিল্পীর হাতে খড়, মাটি, বাঁশ ও রঙের সমন্বয়ে প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা, ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, আরতি, ধুনুচি নৃত্য, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—সবকিছু মিলেই পূর্ণতা পায় শারদীয় উৎসব।প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপসজ্জার সঙ্গে যুক্ত থাকেন অসংখ্য শিল্পী ও কারিগর। পাশাপাশি পরিবহন, আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দুর্গোৎসব স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে। ফলে দুর্গাপূজা একদিকে যেমন ধর্মীয় উৎসব, অন্যদিকে তেমনি শিল্প, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবিকার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।সময়ের সঙ্গে বদলেছে পূজার রূপসময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে দুর্গাপূজার আয়োজনেও এসেছে নানা পরিবর্তন। ঐতিহ্যবাহী পূজার পাশাপাশি এখন দেখা যায় থিমভিত্তিক মণ্ডপ, নান্দনিক আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব প্রতিমা, ডিজিটাল প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার এবং বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন।আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন চিন্তাধারা পূজাকে আরও বিস্তৃত মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তবে আধুনিকতার এই অগ্রযাত্রার সঙ্গে ঐতিহ্য, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি।পূজামণ্ডপ যেন কেবল বিনোদনের কেন্দ্র হয়ে না ওঠে; সেখানে ভক্তি, শালীনতা, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধও সমানভাবে বজায় থাকতে হবে।‘মদ্যপান করে  মাতলামি’—উৎসবের সংস্কৃতি হতে পারে না ? দুর্গাপূজা আনন্দের উৎসব, কিন্তু সেই আনন্দ কখনোই উচ্ছৃঙ্খলতার পর্যায়ে যেতে পারে না। পূজামণ্ডপে মদ্যপান, মাতলামি, অশালীন আচরণ, মারামারি কিংবা উচ্চস্বরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি শারদীয় উৎসবের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।পূজামণ্ডপে একই সঙ্গে নারী, শিশু, প্রবীণ, ভক্ত ও বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীর উপস্থিতি থাকে। সেখানে মদ্যপ অবস্থায় কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে শুধু পূজার পরিবেশই নষ্ট হয় না, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে। তাই পূজামণ্ডপকে মাদক ও মদ্যপানমুক্ত রাখা এবং শালীন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।আনন্দ প্রকাশেরও একটি সংস্কৃতি রয়েছে। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, আরতি, ধুনুচি নৃত্য, ভক্তিগীতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা—এসবই হতে পারে উৎসবের নির্মল আনন্দের মাধ্যম। কিন্তু মদ্যপান করে মাতলামি, অশালীনতা কিংবা অন্যকে বিরক্ত করা কোনোভাবেই সেই আনন্দের অংশ হতে পারে না।নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।দুর্গাপূজার মতো বৃহৎ উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ দর্শনার্থীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হয়।পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিরাপদ রাখা, শিশু ও নারীদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া, অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা, বিদ্যুৎ সংযোগে সতর্কতা অবলম্বন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন।একই সঙ্গে শব্দদূষণ, অশালীন সাংস্কৃতিক আয়োজন, মাদক ও মদ্যপান, জুয়া কিংবা যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে পূজা কমিটিগুলোকে কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।নিরাপদ পূজা নিশ্চিত করা কেবল প্রশাসনের দায়িত্ব নয়। পূজা কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক, ভক্ত, দর্শনার্থী এবং স্থানীয় জনগণ—সবার সম্মিলিত দায়িত্বেই একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব সম্ভব।পূজার মূল চেতনা ফিরে আসুক।দুর্গাপূজার প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু প্রতিমার উচ্চতা, মণ্ডপের চাকচিক্য কিংবা আলোকসজ্জার জৌলুসে নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত ভক্তি, মানবিকতা, সম্প্রীতি, সৌন্দর্যবোধ এবং অশুভের বিরুদ্ধে শুভবোধ জাগ্রত করার মধ্যে।দেবী দুর্গার আরাধনার মূল শিক্ষা—অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়। তাই পূজার আয়োজনেও সেই আদর্শের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। নিজের ভেতরের হিংসা, অহংকার, লোভ, অসহিষ্ণুতা ও অন্যায়কে পরাজিত করার মধ্য দিয়েই দুর্গোৎসবের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা সম্ভব।তাই পূজামণ্ডপ হোক প্রার্থনার স্থান, সংস্কৃতিচর্চার স্থান ও সামাজিক সম্প্রীতির স্থান। মদ্যপান ও মাতলামির পরিবর্তে থাকুক ঢাকের বাদ্য; অশালীনতার পরিবর্তে থাকুক শালীন সাংস্কৃতিক আয়োজন; বিশৃঙ্খলার পরিবর্তে থাকুক শৃঙ্খলা; বিভেদের পরিবর্তে থাকুক সম্প্রীতি।দুর্গাপূজা হোক শুধু দেবীর আরাধনা নয়—নিজের ভেতরের অসুরকে পরাজিত করারও অঙ্গীকার।সনাতন ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।পূজামণ্ডপ হোক পবিত্র, উৎসব হোক নিরাপদ, সমাজ হোক সম্প্রীতির।

 দুর্গাপূজা:ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারায় শুদ্ধতার প্রত্যয়।

প্রথমবার ভারতের মাটিতে গাইবে বাংলাদেশের সনাতনী ব্যান্ড ‘প্রণাম’

বাংলাদেশের সনাতনী সংগীতাঙ্গনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে সনাতনী মিউজিক ব্যান্ড ‘প্রণাম’ (Pranam)। প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে সংগীত পরিবেশন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম সনাতনী ব্যান্ড হিসেবে পরিচিত এই দলটি। আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়িতে মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবে ব্যান্ডটি।শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্ক গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে বঙ্গীয় হিন্দু মহামঞ্চ। আয়োজকদের প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, মহালয়ার এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সনাতনী সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতাদের সামনে নিজেদের সংগীতচর্চা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরবে ‘প্রণাম’।সনাতন ধর্মীয় ভাবধারা, ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা এবং ঐতিহ্যবাহী সংগীতকে আধুনিক বাদ্যযন্ত্র ও ব্যান্ডসংগীতের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ‘প্রণাম’। ২০১৫ সাল থেকে পথচলা শুরু করা এই ব্যান্ডটি সনাতনী সংগীতকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপনের মাধ্যমে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।এবার দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগীত পরিবেশনের সুযোগ পাওয়াকে ব্যান্ডটির সাংস্কৃতিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।মহালয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ধর্মীয় উপলক্ষ। দেবীপক্ষের সূচনা এবং শারদীয় দুর্গোৎসবের আবহকে কেন্দ্র করে দুই বাংলাতেই বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এমন একটি উপলক্ষকে সামনে রেখে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের সনাতনী ব্যান্ডের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।বাংলাদেশের সনাতনী সংগীতকে দেশের বাইরের শ্রোতাদের কাছে পরিচিত করে তোলার পাশাপাশি ভক্তিমূলক সংগীতের মাধ্যমে দুই বাংলার মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন তৈরিরও একটি সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে।ব্যান্ডটির ভারত সফরকে শুধু একটি সংগীত পরিবেশনা হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের সনাতনী সংস্কৃতি, ভক্তি ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার একটি উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্ক গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে সনাতনী মিউজিক ব্যান্ড ‘প্রণাম’।বাংলাদেশের সনাতনী সংগীতচর্চার এই আন্তর্জাতিক যাত্রা আগামী দিনে আরও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংগীতপ্রেমীদের।

প্রথমবার ভারতের মাটিতে গাইবে বাংলাদেশের সনাতনী ব্যান্ড ‘প্রণাম’

হরিজন শিল্পী পতন বাঁসফোরের হাতে রূপ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা

সমাজ ও জাতপাতের প্রচলিত গোঁড়ামি এবং শত বছরের অবহেলার শিকল ছিঁড়ে এক অনন্য ইতিহাস রচনা করছেন রংপুরের হরিজন সম্প্রদায়ের শিল্পী পতন বাঁসফোর। যুগের পর যুগ ধরে সমাজে প্রান্তিক ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট কিছু পেশা চাপিয়ে দেওয়ার যে সংকীর্ণ মানসিকতা লালন করা হয়েছে, তাকে পুরোপুরি বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন তিনি। শিল্পের নেই কোনো জাত, গোত্র বা সীমানা—এই চিরন্তন সত্যকে বুকে ধারণ করে তিনি নিজ হাতে গড়ে তুলছেন শারদীয় দুর্গোৎসবের শ্রীশ্রী দেবী দুর্গার মৃণ্ময়ী প্রতিমা। তাঁর এই সৃজনশীল ও সাহসী কর্মপ্রয়াস কেবল শিল্পাঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং হিন্দু সমাজের অভ্যন্তরীণ বৈষম্য নিরসন, সাম্য ও অন্তর্ভুক্তির এক শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।​খড়, বাঁশ, মাটি আর সুতলির নিখুঁত বুননে যখন পতন বাঁসফোরের হাতে একের পর এক প্রাণ পাচ্ছে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের পবিত্র অবয়ব, তখন প্রতিমা তৈরির প্রতিটি তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে তাঁর জীবনসংগ্রাম, আত্মমর্যাদা ও বিজয়ের উপাখ্যান। হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের তৈরি প্রতিমায় দেবীর আবাহন সমাজে শতবর্ষ ধরে গেড়ে বসা মনস্তাত্ত্বিক বৈষম্যের মূলোৎপাটন ঘটাচ্ছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') স্থানীয় সচেতন মহল ও হিন্দু ধর্মীয় সংগঠকগণ তাঁর এই শৈল্পিক অবদানকে ব্যাপক সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সনাতন ধর্মের প্রকৃত মূলভাবই হলো সর্বজীবে ঈশ্বরের উপস্থিতি ও জাতিভেদহীন ভাতৃত্ববোধ; ফলে পতন বাঁসফোরের এই উদ্যোগ সনাতনী সমাজের অভ্যন্তরীণ রূপান্তর ও প্রগতিশীল ধারাকে আরও বেগবান করবে।​অধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ পূজা বা প্রতিমা নির্মাণের কাজ নয়, বরং এটি প্রান্তিক মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক অকুতোভয় সামাজিক লড়াই। পেশাগত অবহেলা ও সামাজিক দূরত্বকে পেছনে ফেলে মূলধারার ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কৃতিতে হরিজনদের এই উজ্জ্বল উপস্থিতি জাতিভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। রংপুরের এই শ্রমজীবী মৃৎশিল্পীর উদ্যোগ আজ আর কেবল আঞ্চলিক কোনো সংবাদে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সনাতন সমাজব্যবস্থায় জাতপাতের দেয়াল ভেঙে মানবিক মর্যাদা, সাম্য ও হিন্দু ঐক্যের এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হরিজন শিল্পী পতন বাঁসফোরের হাতে রূপ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা

ধর্ম ও পরিচয় যেন না হয় বাধা, সম-অধিকারের নতুন প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

নাগরিকের ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাতিগত পরিচয় যেন কোনো অবস্থাতেই অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শীর্ষ প্রতিনিধি দলের সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।​শারদীয় দুর্গাপূজা ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান উপলক্ষে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের নানা দীর্ঘদিনের সমস্যা, অধিকার ও দাবি-দাওয়া সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে প্রতিনিধি দলের কথা শোনেন এবং জানান যে, কোনো ধরনের বৈষম্য না রেখে প্রতিটি সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি বলেন, নাগরিকদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং সরকারের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে তা সমাধানের চেষ্টা থাকবে।​মতবিনিময়কালে অসাম্প্রদায়িক চেতনা জোরদারকরণ এবং সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় সরকারের আন্তরিকতার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বৃদ্ধি করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তাঁরা মন্তব্য করেন, এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলে উৎসবের আনন্দ দেশজুড়ে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শনের উদাত্ত আহ্বান জানান।​অনুষ্ঠানের শেষভাগে ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের সুবিধার্থে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের হাতে বিশেষ অনুদানের অর্থ বরাদ্দ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে প্রাথমিক আবেদন করা হলেও সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক কল্যাণ বিবেচনা করে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে চাওয়া অনুদানের চেয়ে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করা হয়। এই বরাদ্দের অর্থ জেলা প্রশাসন ও সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। সভায় বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতা, সংসদ সদস্য এবং হিন্দু-বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবীণ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ম ও পরিচয় যেন না হয় বাধা, সম-অধিকারের নতুন প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

দুর্গাপূজায় বান্দরবানের প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা ও অনুদান প্রদান

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং ভক্তদের নির্বিঘ্ন পূজা অর্চনার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার প্রতিটি মণ্ডপে যাতে সনাতন ধর্মের অনুসারীরা কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা বিঘ্ন ছাড়া তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সেজন্য বিশেষ নজরদারি ও সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হিন্দুত্ববাদী ও মানবাধিকার সচেতন জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সনাতনী সম্প্রদায়ের সুরক্ষাকে এবার সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।​সভা শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সনাতনী সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা ও ধর্মীয় আয়োজকদের উৎসাহিত করতে বেশ কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস উপস্থিত থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপের পরিচালকদের হাতে সরকারি অনুদান তুলে দেন। সেই সাথে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নম্বর সম্বলিত বিশেষ প্লেকার্ড এবং নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি মণ্ডপের জন্য একটি করে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বিতরণ করা হয়। পূজা প্রাঙ্গণের পরিবেশ রক্ষায় ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে পৃথক ডাস্টবিনও হস্তান্তর করা হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') প্রশাসনের এই উদ্যোগকে বান্দরবানের স্থানীয় সনাতনী সমাজ অত্যন্ত ইতিবাচক ও মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার, আর তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভূমিকা পালন করবে।

দুর্গাপূজায় বান্দরবানের প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা ও অনুদান প্রদান

দুর্গাপূজা উপলক্ষে মণ্ডপে মণ্ডপে ডিএসসিসির অর্থ সহায়তা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় সাড়ম্বরে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমান অধিকার নিশ্চিতের অংশ হিসেবে ১৬৮টি পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবারে নগর ভবন অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম মণ্ডপ প্রতিনিধিদের হাতে মোট ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার অনুদানের অর্থ তুলে দেন। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ঢাকার সর্বজনীন পূজা মণ্ডপগুলোর বিপুলসংখ্যক প্রতিনিধি অংশ নেন। বহু জাতির ও বহু ধর্মের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা বাংলাদেশে সকল নাগরিকের সমান সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে উপস্থিত সনাতনী সমাজের প্রতিনিধিরা সাধুবাদ জানান।​প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন যে দেশকে রক্ষা করতে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ আমাদের সকলের এবং এ দেশের মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো আমরা সবাই বাংলাদেশি। শারদীয় দুর্গাপূজার আগে ও চলাকালীন সময়ে শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সীমানার ভেতরের সড়কবাতি সচল রাখা এবং ড্রেন-নর্দমা পরিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা দেওয়ার বিষয়ে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এ ছাড়াও পূজার সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য তিন দিন আগে থেকেই নগর ভবনে একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অর্থের অংকের চেয়েও বড় কথা হলো সনাতনী পূজা মণ্ডপগুলোর প্রতিনিধিদের এভাবে মূল্যায়িত ও পুরস্কৃত করায় পূজার সার্বিক আনন্দ বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে মণ্ডপে মণ্ডপে ডিএসসিসির অর্থ সহায়তা

সিডনিতে বিপিএ-র দশম মহালয়া উদ্‌যাপন

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে উৎসবমুখর, ধর্মীয় আবহাওয়া ও অত্যন্ত শ্রদ্ধাঘন পরিবেশে বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)-র দশম মহালয়া উদ্‌যাপিত হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার নিউ সাউথ ওয়েলসের বিক্রফটে অবস্থিত রোজলিয়া কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাঙালির মহাসমাগম ঘটে। শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বারতাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাঙালিদের আত্মিক টান, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা এবং সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।​অনুষ্ঠানের সূচনায় বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট উপস্থিত সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি মহালয়ার ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সংক্ষেপে বর্ণনা করেন এবং ২০১৬ সালে সিডনির কোগারাহ স্কুল অব আর্টসে সীমিত পরিসরে শুরু হওয়া বিপিএ-র মহালয়া আয়োজনের এক দশকের পথচলার স্মৃতিতর্পণ করেন। দীর্ঘ এই সময়ে সংগঠনটির নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াসে এই উদ্যোগ প্রবাসের মাটিতে অন্যতম প্রধান শারদীয় উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।​সুমিতা দে ও অনুপম গোস্বামীর দক্ষ পরিচালনা ও দিকনির্দেশনায় চণ্ডীপাঠ, আগমনী গান, আবৃত্তি ও নান্দনিক মঞ্চায়নের মাধ্যমে দেবীপক্ষের চিরায়ত আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল জ্যোতি বিশ্বাসের সুললিত কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ এবং জন্মেজয় রায়ের জীবন্ত তবলা সংগত, যা সমগ্র মিলনায়তনে এক গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') বহু দূরে প্রবাসে বাস করেও এই পরিবেশনা উপস্থিত সর্বস্তরের সনাতনী ও সুধী সমাজকে বাংলার আবহমান সংস্কৃতির শিকড়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।​এই আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের মাঝে নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য, আচার-অনুষ্ঠান ও মানবিক সম্প্রীতির শিক্ষা সঞ্চালিত করার এক প্রয়াস পরিলক্ষিত হয়। সিডনির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত সাধারণ মানুষের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে, যেখানে বিভিন্ন জাতি ও ধর্ম-বর্ণের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবিকতা এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।​অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সংগঠনের সেক্রেটারি দিবাকর সমদ্দার উপস্থিত ভক্ত ও দর্শক, শিল্পী, কলাকুশলী, স্বেচ্ছাসেবী এবং সকল শুভানুধ্যায়ীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই মাইলফলক স্পর্শ করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে এবং প্রবাসের বুকে বাঙালির এই নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভ সূচনা ঘোষণা করা হয়।

সিডনিতে বিপিএ-র দশম মহালয়া উদ্‌যাপন

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পুলিশের মতবিনিময়

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের উদ্যোগে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার বিকেল ৪টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার ৯টি থানার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও জেলা পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মুঃ জালাল উদ্দিন ফাহিম, পিপিএম-সেবা-এর সভাপতিত্বে সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাগণ এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পুলিশের মতবিনিময়

মির্জাপুরে পূজামণ্ডপের ছয়টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ইসমাইল

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুর্গাপূজার আবহ আবহমান সনাতনী সম্প্রদায়ের উৎসবমুখর পরিবেশকে বিষাদে রূপ দিয়ে পূজামণ্ডপের ছয়টি প্রতিমা ভাঙচুরের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের জামুর্কী পশ্চিমপাড়া আর্য সমিতির পূজামণ্ডপে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটে যাওয়া এই বর্বরোচিত হামলায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পরদিন ১ অক্টোবর মণ্ডপের সভাপতি প্রকাশ বাকালী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ঘটনার গভীর তদন্তে নেমে পুলিশ ইসমাইল হোসেন নামে ৩৫ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করে, যে জামুর্কী পশ্চিমপাড়া গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে। গত ৩ অক্টোবর টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারের তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয়দের মাঝে 'সাইকো ইসমাইল' নামে পরিচিত এই যুবকের গ্রেপ্তার কেবল একটি অপরাধের সমাধান নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকা গভীর কোনো ষড়যন্ত্রের দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') কারণ, প্রায় ছয় মাস আগেও একটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে এই একই ইসমাইল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। সে সময়ে দায়ের হওয়া মামলায় জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো একই ধরনের জঘন্য অপরাধ সংগঠিত করায় অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি তার পেছনের ইন্দনদাতাদের খুঁজে বের করার জোর দাবি উঠেছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে বারবার আঘাত হানা এবং তাদের নিরাপদে ধর্মপালনের সংবিধিবদ্ধ ও মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই পুনরাবৃত্তি ঘিরে এখন পুরো মির্জাপুর জুড়ে নানা প্রশ্ন, সন্দেহ ও তীব্র সামাজিক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মির্জাপুরে পূজামণ্ডপের ছয়টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ইসমাইল

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ময়মনসিংহে শিশুদের রঙিন ক্যানভাসে সংস্কৃতির উৎসব

শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বারতায় মুখরিত ময়মনসিংহের ঐতিহ্যের ধারক দুর্গাবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণ। ধর্মীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। শুক্রবার দুপুরে দুর্গাবাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ছয় শতাধিক শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মন্দির চত্বর এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় মূল্যবোধ, লোকজ সংস্কৃতি এবং শারদীয় আবহকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলতে শিশুদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।​রঙ-তুলির ছোঁয়ায় ক্যানভাসে জীবন্ত হয়ে ওঠে দশভুজা দেবী দুর্গার প্রতিমূর্তি, শরতের শুভ্র কাশফুল, নীল আকাশ আর গ্রামবাংলার চিরন্তন রূপ। খুদে শিল্পীরা তাদের কল্পনা ও সৃজনশীলতা দিয়ে হিন্দু ঐতিহ্য, সনাতন সংস্কৃতি এবং বাঙালি জাতির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে নিপুণভাবে তুলে ধরে। একদিকে সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের প্রস্তুতি, অন্যদিকে শিশুদের চিত্রাঙ্কন—দুইয়ে মিলে দুর্গাবাড়ি প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে আনন্দ ও সম্প্রীতির এক মহামিলনমেলা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের সার্বিক সহায়তা ও উৎসাহ প্রদান করেন এবং সুন্দর এ আয়োজন উপভোগ করেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সনাতন সংস্কৃতির বিকাশ ও শিশু মননে ধর্মীয় সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরে আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শংকর শাহা বলেন, শিশুদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য। এ ধরনের আয়োজন ছোটদের মননে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গঠনে ভূমিকা রাখে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ছয় শতাধিক প্রতিযোগী শিশুদের প্রত্যেকে যেন উৎসাহিত বোধ করে, সেজন্য সান্ত্বনা পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। একইসঙ্গে প্লে গ্রুপ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট চারটি বিভাগে বিভক্ত এই প্রতিযোগিতার ৪৮ জন সেরা খুদে শিল্পীকে বিকেলে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরস্কৃত করা হয়। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে উপস্থিত সনাতনী অভিভাবকরা জানান, বর্তমান সময়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সনাতন ধর্মীয় আচার ও নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চায় শিশুদের যুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক চেতনায় সমৃদ্ধ করবে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ময়মনসিংহে শিশুদের রঙিন ক্যানভাসে সংস্কৃতির উৎসব