শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম পবিত্র তিথি মহাঅষ্টমী উপলক্ষে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, চণ্ডীপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে মন্দির প্রাঙ্গণ। মহাঅষ্টমীর বিশেষ আকর্ষণ কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর ধর্মীয় আবেগ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) মহাঅষ্টমী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে বিশেষ পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি প্রদান এবং বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটের মধ্যে মহাঅষ্টমীর মূল বিহিত পূজা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত সন্ধিপূজার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত সন্ধিপূজা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেবী দুর্গার চামুণ্ডা রূপে চণ্ড ও মুণ্ড অসুর বধের পৌরাণিক ঘটনাকে স্মরণ করে এই বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
মহাঅষ্টমীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কুমারী পূজা। সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, বয়ঃসন্ধির পূর্ববর্তী কুমারী কন্যাকে দেবী দুর্গার জীবন্ত প্রতিরূপ হিসেবে আরাধনা করা হয়। ফুল, চন্দন, বস্ত্র ও বিভিন্ন পূজার উপকরণ নিবেদনের মাধ্যমে কুমারীর মধ্যে মাতৃশক্তির আরাধনা করেন ভক্তরা।
রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল সাড়ে ৯টায় ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজার আয়োজনের কথা রয়েছে। এই পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এদিকে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন দেওয়ানপুরে এ বছর প্রথমবারের মতো কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়েছে।স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী তিথিতে প্রথমবারের মতো কুমারী আরাধনার উদ্যোগ দেওয়ানপুরের ধর্মীয় উৎসবে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
কুমারী পূজার মাধ্যমে নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, মাতৃশক্তির বন্দনা এবং সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়। দেওয়ানপুরে এই প্রথম আয়োজন স্থানীয় পূজার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে মহাসপ্তমী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নবপত্রিকা স্থাপন, দেবীর বিশেষ পূজা, অঞ্জলি প্রদান ও ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভক্তরা দেবী দুর্গার চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করে পরিবার, সমাজ ও দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনা করেন।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও ভক্তির আবহে মহাঅষ্টমীর এই পবিত্র আয়োজন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শুধু একটি উৎসব নয়, বরং অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা এবং মানবকল্যাণের এক গভীর আধ্যাত্মিক বার্তা।
**Hindus News — Voice of Hinduism**
মতামত