রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তি রূপলাল দাস ও প্রদীপ লালকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির এক উপজেলা নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত নেতার নাম ইউনুস আলী (৩২)। তিনি এবি পার্টির তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার সদস্যসচিব বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত রূপলাল দাসের স্ত্রী ভারতী রানী গত বছরের ১০ আগস্ট তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা সাত শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে ভিডিও ফুটেজ, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও গোয়েন্দা অনুসন্ধানের ভিত্তিতে একে একে আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান,
“ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ইউনুস আলী এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

বোতলের ঢাকনা খোলার পর দুর্গন্ধ ছড়ালে জনতার মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই উত্তেজিত জনতা রূপলাল ও প্রদীপ লালকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে পিটিয়ে আহত করে।
পরে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রূপলাল দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত প্রদীপ লালকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরদিন ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় মানবাধিকারকর্মী ও সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, গুজব ও সন্দেহের বশে প্রকাশ্য জনপিটুনি এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
দ্রুত সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।
মতামত