হত্যাকাণ্ডের পরপরই একটি বিশেষ মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসামির নামের ‘মো.’ (মোহাম্মদ) অংশটি বাদ দিয়ে কেবল ‘মিলন মল্লিক’ নাম ব্যবহার করে তাকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হিসেবে প্রচার করার জোর চেষ্টা চালায়। দাবি করা হয়, খু*নি হিন্দু হওয়ায় ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে।
তবে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পূর্ণ নাম মো. মিলন মল্লিক এবং তিনি একজন মুসলিম। বাংলাদেশে ‘মল্লিক’ পদবি হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ ব্যবহার করেন। আসামির নামের প্রথমাংশের ‘মো.’ শব্দটি ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা ‘বাংলাদেশ অগ্নিবীর’ এর ফ্যাক্ট-চেক এবং পুলিশি তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
র্যাব-৩ এর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার মিলন নিহত লিলির বাবার রেস্তোরাঁয় চাকরি করতেন। সেই সুবাদে লিলির পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। মিলন মনে মনে লিলিকে পছন্দ করতেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) লিলির পরিবারের সদস্যরা গ্রামের বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতির কারণে বাসার বাইরে ছিলেন। দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে ফাঁকা বাসায় মিলন লিলিকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন।
জিজ্ঞাসাবাদে মিলন জানান, তার প্রস্তাবে রাজি না হয়ে লিলি তাকে ভর্ৎসনা করেন। লিলি বলেন, “রেস্তোরাঁ মালিকের মেয়ে হয়ে আমি কর্মচারীর সঙ্গে যাব না। বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়িও না।”
লিলির এই উক্তিতে ক্ষিপ্ত হয়ে এবং প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে মিলন রান্নাঘর থেকে বটি এনে লিলিকে গলা কেটে হত্যা করেন এবং পালিয়ে যান।
র্যাব জানায়, প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে বাগেরহাট থেকে মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় যে মামলা দায়ের করেছেন, সেই মামলায় মিলনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে।
এদিকে, বাংলাদেশ অগ্নিবীর এক বিবৃতিতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছে এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
মতামত