কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সনাতনী সম্প্রদায়ের অব্যাহত নিপীড়ন বন্ধ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, স্বাধীন সনাতনী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং সনাতন ধর্মের প্রভাবশালী প্রবক্তা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে শনিবার কলকাতার রাজপথে এক বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে স্বাধিকারকামী সংগঠন ‘বঙ্গসেনা’। শিয়ালদহ স্টেশন এলাকা থেকে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক এবং শত শত গেরুয়াধারী সনাতনী সাধু-সন্ন্যাসীর অংশগ্রহণে এক প্রতিবাদী মিছিল শুরু হয়। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে মিছিলটি পার্ক সার্কাসে অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের দিকে অগ্রসর হলে পুরো এলাকায় ভারী উত্তেজনা নেমে আসে।
উপহাইকমিশন চত্বরের কাছাকাছি পৌঁছাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে কলকাতা পুলিশ ডাবল ব্যারিকেড দিয়ে মিছিলটি আটকে দেয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') বাংলাদেশ মিশন থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরেই বিক্ষোভকারীদের গতিরোধ করায় পুলিশের সঙ্গে বঙ্গসেনার নেতাকর্মীদের প্রচণ্ড বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেডের সামনেই রাস্তায় অবস্থান নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান, যার ফলে বেশ কিছুক্ষণ ওই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। শনিবার উপহাইকমিশন বন্ধ থাকায় কোনো স্মারকলিপি জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
সংগঠনের শীর্ষনেতা সুভাষ মজুমদার বাংলাদেশ সরকারের অত্যাচারী নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে সনাতনীদের ওপর প্রতিনিয়ত গণহত্যা ও ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়ে তাদের ভিটেমাটি থেকে বিতাড়িত করা হচ্ছে। সেখানে এখনো যারা টিকে আছেন, তাদের জীবন প্রতিদিন চরম শঙ্কায় কাটছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে পুরো পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা আজ রাজপথে নেমেছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই সনাতনীদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তার দাবি আদায়ে কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ঘিরে একের পর এক প্রতিবাদ বিক্ষোভ সংঘটিত হচ্ছে। এর আগে গত ৩ অক্টোবরেও ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ ও বিবেকানন্দ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠানের সনাতনী সাধু-সন্ন্যাসীরা একইভাবে উপহাইকমিশন ঘেরাও করে স্মারকলিপি প্রদান করেছিলেন।
মতামত