বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে এস. এম. নিষাদ হাসান নামক এক ভুক্তভোগী স্বামী জানান, স্ত্রী বাসায় না থাকলে বন্ধুদের নিয়ে সারারাত আড্ডা দেওয়ার এক অদ্ভুত স্বাধীনতা অনুভূত হয়। তখন ঘরে ফেরার জন্য কোনো তাড়া থাকে না, নেই কোনো কৈফিয়ত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা। সোহাগ আশরাফ নামে অন্য এক বিবাহিত ব্যক্তি কৌতুকপূর্ণ সুরে বলেন, অনেক সময় স্ত্রীরা স্বামীর আড্ডা জমানোর সুযোগ না দিতেই বাবার বাড়ি যেতে চান না। আবার সন্দেহের এক সূক্ষ্ম বাতাবরণও অনেক ক্ষেত্রে কাজ করে। দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্যে ঘরটা যখন মাঝে মাঝে কারাগারের মতো মনে হতে শুরু করে, তখনই স্ত্রীর পিত্রালয় যাত্রা এক অনন্য মুক্তির স্বাদ নিয়ে আসে।
তবে এই স্বাধীনতার আনন্দ কিন্তু চিরস্থায়ী নয়। প্রথম দু-এক দিন উচ্ছ্বাসে কাটলেও এরপরই শুরু হয় শূন্যতার হাহাকার। হিন্দু ধর্মে গৃহিণীকে বলা হয় ‘গৃহলক্ষ্মী’, আর লক্ষ্মীহীন ঘর যেমন শ্রীহীন হয়ে পড়ে, ঠিক তেমনি স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ঘরটা অদ্ভুত রকমের নিস্তব্ধ হয়ে যায়। খাবার টেবিলে আদুরে শাসনের ডাক না পাওয়া বা ঘুমানোর আগে দিনভর মান-অভিমানের গল্পের অভাবটা স্বামীরা খুব শীঘ্রই হাড়হাড়ে টের পেতে শুরু করেন। ওই সময় বুঝতে পারেন, ছোট ছোট খিটখিটে অভ্যাসগুলোও আসলে কতটা মায়ায় জড়ানো। দিনের শেষে ‘আগামীকালই ফিরছি’—স্ত্রীর এই একটি বার্তাই তখন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সংগীত হয়ে ধরা দেয় স্বামীদের কাছে। সাময়িক দূরত্ব কেবল এই পরম সত্যটাই প্রতিষ্ঠিত করে যে, শাসন আর মায়ার বাঁধনেই প্রকৃত সুখ নিহিত।
মতামত