হিন্দুস নিউজ

স্ত্রী বাবার বাড়ী গেলে কেন স্বামী আনন্দের জোয়ারে ভাসে


| প্রিন্ট সংস্করণ

স্ত্রী বাবার বাড়ী গেলে কেন স্বামী আনন্দের জোয়ারে ভাসে
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
সনাতন ধর্মের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় অর্ধাঙ্গিনী বা সহধর্মিণী ছাড়া পুরুষ অসম্পূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘ সময় গৃহকোণে সংসার ধর্ম পালনের মাঝে অনেক সময় সম্পর্কের মাধুর্যে অভ্যস্ততার একঘেয়েমি এসে ভর করে। সম্প্রতি একটি সামাজিক সমীক্ষা ও বিবাহিত পুরুষদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে এক অদ্ভুত চিত্র উঠে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, স্ত্রী কয়েক দিনের জন্য বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বললেই অবচেতন মনে খুশির জোয়ার বয়ে যায় স্বামীদের মনে। মুখে ‘যেও না’ বললেও অন্তরে যেন তারা এক পশলা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। তবে এই আনন্দ কি কেবলই বিচ্ছেদ-বাসনা, নাকি এর গভীরে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো কারণ?


​মনস্তাত্ত্বিকরা বলছেন, বিষয়টি আসলে ব্যক্তিগত পরিসর বা ‘পার্সোনাল স্পেস’-এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিয়ের পর থেকে সাংসারিক দায়িত্ব, সময়ের হিসাব এবং প্রাত্যহিক রুটিনের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হতে পুরুষরা অনেক সময় নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলেন। স্ত্রী যখন কিছুদিনের জন্য পিত্রালয়ে যান, তখন স্বামীরা যেন তাদের সেই ফেলে আসা অবিবাহিত জীবনের ছোঁয়া ফিরে পান। রাত জেগে ক্রিকেট ম্যাচ দেখা, বিছানায় তোয়ালে রাখা নিয়ে বকুনি না খাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে অবারিত আড্ডায় মেতে ওঠার যে স্বাধীনতা, তাকেই সাময়িকভাবে পরম প্রাপ্তি বলে মনে করেন তারা। সংসার জীবনে স্ত্রীর নিয়মতান্ত্রিক শাসনের অভাবটাই যেন তখন এক পরম পাওয়া হয়ে দাঁড়ায়।

​বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে এস. এম. নিষাদ হাসান নামক এক ভুক্তভোগী স্বামী জানান, স্ত্রী বাসায় না থাকলে বন্ধুদের নিয়ে সারারাত আড্ডা দেওয়ার এক অদ্ভুত স্বাধীনতা অনুভূত হয়। তখন ঘরে ফেরার জন্য কোনো তাড়া থাকে না, নেই কোনো কৈফিয়ত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা। সোহাগ আশরাফ নামে অন্য এক বিবাহিত ব্যক্তি কৌতুকপূর্ণ সুরে বলেন, অনেক সময় স্ত্রীরা স্বামীর আড্ডা জমানোর সুযোগ না দিতেই বাবার বাড়ি যেতে চান না। আবার সন্দেহের এক সূক্ষ্ম বাতাবরণও অনেক ক্ষেত্রে কাজ করে। দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্যে ঘরটা যখন মাঝে মাঝে কারাগারের মতো মনে হতে শুরু করে, তখনই স্ত্রীর পিত্রালয় যাত্রা এক অনন্য মুক্তির স্বাদ নিয়ে আসে।

​তবে এই স্বাধীনতার আনন্দ কিন্তু চিরস্থায়ী নয়। প্রথম দু-এক দিন উচ্ছ্বাসে কাটলেও এরপরই শুরু হয় শূন্যতার হাহাকার। হিন্দু ধর্মে গৃহিণীকে বলা হয় ‘গৃহলক্ষ্মী’, আর লক্ষ্মীহীন ঘর যেমন শ্রীহীন হয়ে পড়ে, ঠিক তেমনি স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ঘরটা অদ্ভুত রকমের নিস্তব্ধ হয়ে যায়। খাবার টেবিলে আদুরে শাসনের ডাক না পাওয়া বা ঘুমানোর আগে দিনভর মান-অভিমানের গল্পের অভাবটা স্বামীরা খুব শীঘ্রই হাড়হাড়ে টের পেতে শুরু করেন। ওই সময় বুঝতে পারেন, ছোট ছোট খিটখিটে অভ্যাসগুলোও আসলে কতটা মায়ায় জড়ানো। দিনের শেষে ‘আগামীকালই ফিরছি’—স্ত্রীর এই একটি বার্তাই তখন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সংগীত হয়ে ধরা দেয় স্বামীদের কাছে। সাময়িক দূরত্ব কেবল এই পরম সত্যটাই প্রতিষ্ঠিত করে যে, শাসন আর মায়ার বাঁধনেই প্রকৃত সুখ নিহিত।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


স্ত্রী বাবার বাড়ী গেলে কেন স্বামী আনন্দের জোয়ারে ভাসে

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image
সনাতন ধর্মের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় অর্ধাঙ্গিনী বা সহধর্মিণী ছাড়া পুরুষ অসম্পূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘ সময় গৃহকোণে সংসার ধর্ম পালনের মাঝে অনেক সময় সম্পর্কের মাধুর্যে অভ্যস্ততার একঘেয়েমি এসে ভর করে। সম্প্রতি একটি সামাজিক সমীক্ষা ও বিবাহিত পুরুষদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে এক অদ্ভুত চিত্র উঠে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, স্ত্রী কয়েক দিনের জন্য বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বললেই অবচেতন মনে খুশির জোয়ার বয়ে যায় স্বামীদের মনে। মুখে ‘যেও না’ বললেও অন্তরে যেন তারা এক পশলা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। তবে এই আনন্দ কি কেবলই বিচ্ছেদ-বাসনা, নাকি এর গভীরে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো কারণ?


​মনস্তাত্ত্বিকরা বলছেন, বিষয়টি আসলে ব্যক্তিগত পরিসর বা ‘পার্সোনাল স্পেস’-এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিয়ের পর থেকে সাংসারিক দায়িত্ব, সময়ের হিসাব এবং প্রাত্যহিক রুটিনের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হতে পুরুষরা অনেক সময় নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলেন। স্ত্রী যখন কিছুদিনের জন্য পিত্রালয়ে যান, তখন স্বামীরা যেন তাদের সেই ফেলে আসা অবিবাহিত জীবনের ছোঁয়া ফিরে পান। রাত জেগে ক্রিকেট ম্যাচ দেখা, বিছানায় তোয়ালে রাখা নিয়ে বকুনি না খাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে অবারিত আড্ডায় মেতে ওঠার যে স্বাধীনতা, তাকেই সাময়িকভাবে পরম প্রাপ্তি বলে মনে করেন তারা। সংসার জীবনে স্ত্রীর নিয়মতান্ত্রিক শাসনের অভাবটাই যেন তখন এক পরম পাওয়া হয়ে দাঁড়ায়।

​বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে এস. এম. নিষাদ হাসান নামক এক ভুক্তভোগী স্বামী জানান, স্ত্রী বাসায় না থাকলে বন্ধুদের নিয়ে সারারাত আড্ডা দেওয়ার এক অদ্ভুত স্বাধীনতা অনুভূত হয়। তখন ঘরে ফেরার জন্য কোনো তাড়া থাকে না, নেই কোনো কৈফিয়ত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা। সোহাগ আশরাফ নামে অন্য এক বিবাহিত ব্যক্তি কৌতুকপূর্ণ সুরে বলেন, অনেক সময় স্ত্রীরা স্বামীর আড্ডা জমানোর সুযোগ না দিতেই বাবার বাড়ি যেতে চান না। আবার সন্দেহের এক সূক্ষ্ম বাতাবরণও অনেক ক্ষেত্রে কাজ করে। দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্যে ঘরটা যখন মাঝে মাঝে কারাগারের মতো মনে হতে শুরু করে, তখনই স্ত্রীর পিত্রালয় যাত্রা এক অনন্য মুক্তির স্বাদ নিয়ে আসে।

​তবে এই স্বাধীনতার আনন্দ কিন্তু চিরস্থায়ী নয়। প্রথম দু-এক দিন উচ্ছ্বাসে কাটলেও এরপরই শুরু হয় শূন্যতার হাহাকার। হিন্দু ধর্মে গৃহিণীকে বলা হয় ‘গৃহলক্ষ্মী’, আর লক্ষ্মীহীন ঘর যেমন শ্রীহীন হয়ে পড়ে, ঠিক তেমনি স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ঘরটা অদ্ভুত রকমের নিস্তব্ধ হয়ে যায়। খাবার টেবিলে আদুরে শাসনের ডাক না পাওয়া বা ঘুমানোর আগে দিনভর মান-অভিমানের গল্পের অভাবটা স্বামীরা খুব শীঘ্রই হাড়হাড়ে টের পেতে শুরু করেন। ওই সময় বুঝতে পারেন, ছোট ছোট খিটখিটে অভ্যাসগুলোও আসলে কতটা মায়ায় জড়ানো। দিনের শেষে ‘আগামীকালই ফিরছি’—স্ত্রীর এই একটি বার্তাই তখন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সংগীত হয়ে ধরা দেয় স্বামীদের কাছে। সাময়িক দূরত্ব কেবল এই পরম সত্যটাই প্রতিষ্ঠিত করে যে, শাসন আর মায়ার বাঁধনেই প্রকৃত সুখ নিহিত।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
স্ত্রী বাবার বাড়ী গেলে কেন স্বামী আনন্দের জোয়ারে ভাসে
0:00 0:00
1.0x