নিহতের ছেলে জয় দাস জানান, আসামিরা তাঁকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়েছে। শুধু তাই নয়, অন্যদের দিয়ে তাঁর দোকানে গিয়েও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবার নিয়ে তিনি মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ৯ আগস্ট রাতে মিঠাপুকুরের ছড়ান বালুয়া এলাকা থেকে ভ্যান নিয়ে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর গ্রামে রূপলালের বাড়িতে ফিরছিলেন রূপলাল দাস ও প্রদীপ লাল দাস। রাত সাড়ে আটটার দিকে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে পৌঁছালে চোর সন্দেহে স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করে। পরে দফায় দফায় পিটুনিতে দুজনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১০ আগস্ট তারাগঞ্জ থানায় নিহত রূপলালের স্ত্রী ভারতী দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৭০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সময়ের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ সয়ার ইউনিয়নের পাইকারপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে সোহাগ মিয়া ও একই গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে রুবেল পাইকারসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের পুলিশ রিমান্ডে না নিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং পরে তারা জামিনে মুক্তি পায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোহাগ মিয়া ও রুবেল পাইকার দীর্ঘদিন ধরে থাই লটারি ও ভিসা দেওয়ার নামে প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। প্রতারণার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সাংবাদিকেরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও গালিগালাজের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, একই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যাব আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। র্যাব-১৩ জানায়, গত শনিবার ঢাকার শাহবাগ থেকে যৌথ অভিযানে মেহেদী হাসান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি এই হত্যাকাণ্ডের ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ বলে দাবি করা হচ্ছে। এ নিয়ে মামলায় মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে ১৭ জানুয়ারি এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার সদস্যসচিব ইউনুস আলীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, আসামিরা যদি মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়ে থাকে, তবে বাদী থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে এবং থাই ভিসা প্রতারণার অভিযোগসহ সব বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হত্যাকাণ্ডের বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা।
মতামত