জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের আলোচনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে জানানো হয়, মন্দিরের জন্য নির্ধারিত স্থানে শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুম নির্মাণ করা হচ্ছে—
এমন খবর কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ক্যাম্পাসে কখনোই কোনো স্থান কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের জন্য বরাদ্দ বা নির্ধারণ করা হয়নি।
বরং সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ধর্মীয় প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় (২য়) ক্যাম্পাসে একটি পূর্ণাঙ্গ মন্দির কমপ্লেক্স নির্মাণের বিষয়টি পরিকল্পনার মধ্যে রাখা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তটি পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময়েই গৃহীত ও নিষ্পত্তিকৃত একটি বিষয়, যা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ অবগত।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের জন্য প্রণয়নাধীন ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল)-তেও মন্দির কমপ্লেক্স অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ডিপিপি অনুমোদন পেলে অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজের পাশাপাশি মন্দির নির্মাণের কাজও শুরু হবে।


পরে তারা ওই স্থানে অস্থায়ী কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন করেন বলে জানা যায়। শিক্ষার্থীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে একটি কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।

এ প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ করা হয়, সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্বিঘ্নে বিভিন্ন পূজা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন। সর্বশেষ সরস্বতী পূজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টি বিভাগের প্রত্যেকটি পৃথকভাবে প্রশাসনের সার্বিক আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তায় জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করে, যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
বিভ্রান্তি না ছড়াতে সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক স্বাক্ষরিত ওই পোস্টে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সকল ধর্মাবলম্বীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সমানভাবে সচেষ্ট থাকবে।

মতামত