মৃত্যুর পরও রেহাই মিলল না, এমনকি লাশের মর্যাদাও ভুলুণ্ঠিত হলো উন্মত্ত আক্রোশের কাছে। দীপু চন্দ্র দাশকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার পর এবার তার মৃতদেহ সৎকারের সময়ও পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। শ্মশানঘাটে লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় শোকাহত স্বজনদের মারধর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে একদল উগ্রবাদীর বিরুদ্ধে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীপু চন্দ্র দাশকে হত্যার পরই হামলাকারীরা হুমকি দিয়েছিল। তারা উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করে, “দীপু চন্দ্র দাশের লাশ যে নিয়ে আসবো তারে মারমু। দাঁড়া, তোদের আগে মাইরা নেই।” এই হুমকি কেবল মৌখিক আস্ফালনে সীমাবদ্ধ ছিল না। শ্মশানের পথে লাশবাহী খাটিয়া নিয়ে যাওয়ার সময় স্বজনদের ওপর চড়াও হয় হামলাকারীরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হামলাকারীরা এতটাই বেপরোয়া ছিল যে, তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদেরও শ্মশানঘাট ও দিপুর বাড়ি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ফলে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিপুর পরিবারকে একাই লাশের সৎকার সম্পন্ন করতে হয়। শোকের মুহূর্তে মানবিকতার পরিবর্তে এক অসহনীয় ও অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, মিথ্যা অজুহাতে দীপুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পরেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে শ্মশানঘাটের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায়।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, দেশে কি মৃত মানুষের মর্যাদাও নিরাপদ নয়? যেখানে শোকের মুহূর্তে স্বজনদের পাশে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে লাশের ওপর হামলা কোন সভ্যতার পরিচয়?
মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, প্রশাসনের নীরবতা অপরাধীদের সাহস জোগাচ্ছে। অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার বিচার না হলে ভবিষ্যতে এমন নৃশংসতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
মতামত