চট্টগ্রামে হাটহাজারী ফতেয়াবাদ শ্রী শ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু আশ্রমে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, সম্প্রীতি শোভাযাত্রা ও নৌবিহার অনুষ্ঠিত হয়।২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, মঙ্গলবার মহানাম সেবক সংঘ চট্টগ্রাম (ফতেয়াবাদ) এর উদ্যোগে শ্রী শ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু আশ্রমের ২৫ বৎসর পূর্তি রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ১১ দিনব্যাপী উৎসবের ৭ম দিন নানা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। একই সঙ্গে বরেণ্য আচার্য্য ড. শ্রীমন্ মহানামব্রত ব্রহ্মচারী মহারাজের ১২২ তম শুভ আবির্ভাব উৎসব উপলক্ষে আয়োজনটি হয়ে ওঠে আরও তাৎপর্যপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর।
এদিন সকাল থেকে আশ্রম প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আবহ বিরাজ করে। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক ড. নিকুঞ্জ বন্ধু ব্রহ্মচারী শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করেন। তার ভাবনির্ভর ও ভক্তিময় পাঠে উপস্থিত ভক্তবৃন্দ গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন।
বিকাল ৪.০০ ঘটিকায় আশ্রম প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় এক বর্ণাঢ্য সম্প্রীতি শোভাযাত্রা। ভক্তি, প্রেম ও মানবিক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে শোভাযাত্রাটি ফতেয়াবাদ এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। হাতে হাতে ধর্মীয় পতাকা, কীর্তনের তালে তালে “হরি নাম, মহানাম” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি, সমবেত প্রার্থনা ও নামসংকীর্তনের মাধ্যমে শোভাযাত্রাটি এক অনাবিল ভক্তিময় পরিবেশের সৃষ্টি করে।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন মহানাম সম্প্রদায়ের সাধুসন্ত মহারাজবৃন্দ, দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্তবৃন্দ, আশ্রম সংশ্লিষ্ট সেবক ও সেবিকাবৃন্দসহ সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ নর-নারী। পথের দু’পাশে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরাও এই মহামিলন উৎসব উপভোগ করেন এবং শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিক অভিবাদন জানান।
সন্ধ্যা ৭.০০ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত হয় ভক্তিময় নৌবিহার। এ সময় বন্ধু সুন্দরের আরতী ও মন্দিরের নির্ধারিত আরতী অনুষ্ঠিত হয়। আরতী শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমৎ প্রীতম বন্ধু ব্রহ্মচারী, শ্রীমৎ ড. নিকুঞ্জ বন্ধু ব্রহ্মচারী, শ্রীমৎ কিঙ্কর বন্ধু ব্রহ্মচারী, শ্রীমৎ কৃষ্ণ বন্ধু ব্রহ্মচারী, শ্রীমৎ তীর্থ বন্ধু ব্রহ্মচারীসহ আগত বহু বন্ধু ভক্ত।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, রজতজয়ন্তী উৎসব উপলক্ষে আশ্রমে ধারাবাহিকভাবে নামসংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা, পূজা-অর্চনা ও বিভিন্ন আধ্যাত্মিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শোভাযাত্রাসহ গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে, যাতে ধর্মপ্রাণ দর্শকরা ঘরে বসেই ভক্তিময় পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন।
এই উৎসবের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই আয়োজকদের মূল লক্ষ্য বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
মতামত