শ্রীধাম বৃন্দাবনে শ্রী রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও ভক্তি সাধনার পবিত্র তীর্থভূমিতে ঘটে গেল এক পরম মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। প্রখ্যাত সন্ত শ্রী প্রেমানন্দজি মহারাজের শিষ্য ২৫ বছর বয়সী তরুণ সাধু দীপক ওরফে রসিক দুলারী শরণের রহস্যাবৃত মৃত্যু সনাতন ধর্মপ্রাণ সমাজ তথা নিখিল ভক্তমণ্ডলীকে গভীর শঙ্কা ও বেদনায় নিমজ্জিত করেছে। বৃন্দাবনের বরাহঘাট এলাকার ‘গুরু কৃপা কুঞ্জ’ আশ্রমে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। আশ্রমের চারতলার ভবন থেকে আচমকা পড়ে যাওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত সর্বোদয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি প্রাণ ত্যাগ করেন। শ্রীধামের মতো পরম বৈষ্ণব তীর্থক্ষেত্রে এবং ধর্মপ্রাণ সনাতনীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে একজন নবীন সাধুর এই নিদারুণ পরিণতি শুধু একটি মৃত্যুর ঘটনা নয়, বরং সমগ্র সনাতনী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় পরিবেশের সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
আশ্রম সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সদ্যপ্রয়াত রসিক দুলারী শরণ বিগত দুই বছর ধরে পরম শ্রদ্ধেয় প্রেমানন্দজি মহারাজের অনুচরবর্গের অংশ হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে সেবাব্রতে নিয়োজিত ছিলেন। সন্ত প্রেমানন্দজির থেকে দীক্ষা গ্রহণের পর তিনি রাধা বাটিকার নিকটস্থ উক্ত চারতলা আশ্রমে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার হঠাৎ চারতলা থেকে তাঁর পতনের শব্দে আশ্রমের অন্যান্য সাধু ও অনুগামীরা ছুটে যান এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করান। তবে ঘটনার পর পুলিশি তদন্তে যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, তা পুরো বিষয়টি সাধারণ আত্মহত্যার সম্ভাবনাকে ছাপিয়ে এক গভীর ষড়যন্ত্রের দিকে নির্দেশ করছে। নিহতের ঘর তল্লাশি করে পুলিশ একটি রক্তমাখা শিলনোড়া, রক্তভেজা গ্রাইন্ডিং মেশিন এবং একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নিহতের দেহে একাধিক রহস্যজনক আঘাতের চিহ্ন এবং যৌনাংশে মারাত্মক ক্ষত পাওয়া গেছে, যা কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি বা কেবল উপর থেকে পতনের কারণে সৃষ্ট আঘাতের লক্ষণ হতে পারে না।
সনাতন ধর্মের কেন্দ্রস্থল বৃন্দাবনে বৈষ্ণব সাধুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং হিন্দু ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর পবিত্র ভাবাবেগ রক্ষায় প্রশাসনিক তৎপরতা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বৃন্দাবন কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে এবং এটিকে স্রেফ দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টিকোণ থেকেও তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সনাতনী মূল্যবোধ ও বিশ্বজনীন মানবাধিকারে বিশ্বাসী যেকোনো সচেতন নাগরিকের দাবি, এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে যদি কোনো অশুভ চক্রান্ত বা অপরাধমূলক চক্রান্ত লুকিয়ে থাকে, তবে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত তার উন্মোচন ঘটুক। News copied from- 'হিন্দুস নিউজ' এবং পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে অবস্থানরত সমস্ত সাধু-সন্ত ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হোক, যাতে সনাতন ধর্মের ধারক-বাহকদের পবিত্র সাধনা ক্ষেত্র নিরাপদ থাকে।
মতামত