মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দাবি-দাওয়া থাকবে, আন্দোলন-সংগ্রামও থাকবে; কিন্তু তা হতে হবে নির্ধারিত ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায়। তার ভাষায়, “বাংলাদেশে মব কালচার শেষ। মব কালচারকে আর কোনোভাবে উৎসাহিত করা যাবে না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, মিছিল-সমাবেশ করা যাবে, গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকবে, তবে দাবি আদায়ের নামে মহাসড়ক অবরোধ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
সরকারের এই অবস্থানকে অনেকেই সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে সড়ক অবরোধ ও আকস্মিক জনসমাবেশের প্রেক্ষাপটে কঠোর নীতিগত বার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের আইনশৃঙ্খলা অগ্রাধিকার কৌশলেরই অংশ হতে পারে এ ঘোষণা।
পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের বিষয়েও কড়া অবস্থান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয় মানেই বাংলাদেশের মানুষ পুলিশকে বোঝে। পুলিশকে জনগণের বন্ধু বানাতে হবে।” অতীতে বাহিনীর যে ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে, তা থেকে উত্তরণ ঘটাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।
এছাড়া মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত রাখার অঙ্গীকার করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হবে সর্বস্তরে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, “এই মন্ত্রণালয়কে টোটালি করাপশন ফ্রি বানাতে হবে।” বাহিনীর ভেতরে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সরকারের শুরুর দিনেই এমন বার্তা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন—ঘোষণার পর মাঠপর্যায়ে কত দ্রুত এবং কতটা দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা যায়, সেটিই হবে বড় পরীক্ষা।
মতামত