কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এক ব্যক্তিকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ।
শামীম নামের ওই ব্যক্তি কখনো সুফি পীরের খলিফা, কখনো নিজেকে ‘প্রফেসর’, আবার কখনো সরাসরি ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণ’ কিংবা ‘যীশু মসিহ’ দাবি করে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তার এমন কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় ধর্মীয় প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পরবর্তীতে তার কর্মকাণ্ড আরও বিতর্কিত রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, শামীম প্রথমে নিজেকে ইসলাম ধর্মে বর্ণিত ‘ঈসা রুহুল্লাহ’ দাবি করেন। এরপর হঠাৎ করেই নিজেকে ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণ’ এবং ‘যীশু মসিহ’ হিসেবে ঘোষণা দিতে শুরু করেন। ফিলিপনগরে নিজের বাড়িতে একটি কথিত ‘আশ্রম’ গড়ে তুলে সেখানে বিভিন্ন ধর্মের প্রতীক ব্যবহার করে তিনি নিজস্ব মতবাদ প্রচার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলছেন, একজন মুসলিম হয়েও নিজেকে ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণ’ দাবি করা হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি চরম অবমাননা। তারা মনে করছেন, এমন কর্মকাণ্ড ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার ঝুঁকিও তৈরি করছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের আওতায় একাধিক অপরাধের শামিল হতে পারে। দণ্ডবিধির ২৯৫-এ ধারা অনুযায়ী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একইসঙ্গে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে অর্থ সংগ্রহ করলে তা প্রতারণা হিসেবে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার আওতায় পড়তে পারে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর দাবি প্রচার করলে তা সাইবার আইনের লঙ্ঘন হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও ভণ্ডামি ও প্রতারণার অভিযোগে শামীম গণপিটুনির শিকার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন এবং আগের চেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তার নির্মিত কথিত আশ্রমের বিলাসবহুল অবকাঠামো এবং অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
মতামত