খুলনার পাইকগাছা পৌরসভা এলাকায় এক হিন্দু কিশোরী অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিবার জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত মেয়েটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে তাকে উদ্ধার করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অপহৃত কিশোরীর নাম সূচনা মন্ডল (১৬)। তিনি পাইকগাছা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তার পিতা প্রশান্ত কুমার মন্ডল, বাড়ি খুলনা জেলার পাইকগাছা পৌরসভার শিববাটী এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে।
মেয়েটির বাবা প্রশান্ত কুমার মন্ডল পাইকগাছা থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, স্থানীয় যুবক মান্না (২৫) দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে উত্যক্ত করে আসছিল। স্কুল ও কোচিংয়ে যাতায়াতের পথে মান্না অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুপ্রস্তাব দিত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি মেয়ের কাছ থেকে জানতে পেরে তিনি অভিযুক্তকে সতর্ক করেন এবং তার অভিভাবক আফসারকেও বিষয়টি জানান। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এতে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে মান্না ও তার সহযোগী এশা মিলে কিশোরীকে বিভিন্ন সময়ে উত্যক্ত করতে থাকে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটের দিকে সূচনা মন্ডল কোচিংয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে অভিযুক্ত মান্না, এশা এবং অজ্ঞাতনামা এক মোটরসাইকেল চালকের সহায়তায় তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের অভিযোগ।
ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েটির কোনো সন্ধান পাননি। পরে অভিযুক্ত মান্নার পরিবার এবং সহযোগীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মেয়েটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে আর তা বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেয়েটিকে খোঁজার চেষ্টা ও পারিবারিক আলোচনার কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে ঘটনাটি স্থানীয় অনেকেই অবগত আছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় মান্না, আফসার, এশা ও হালিমের বিরুদ্ধে পাইকগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ভীতি ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মেয়েটিকে দ্রুত উদ্ধার করার জন্য প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
মতামত