চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নে শত বছরের পুরোনো একটি হিন্দু শ্মশান দখল করে তার উপর দিয়ে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পবিত্র এই শ্মশান রক্ষায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত নারী-পুরুষ দিনরাত সেখানে অবস্থান নিয়ে পাহারা দিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের উত্তর সাধনপুর–দক্ষিণ বাণীগ্রাম মাস্টারপাড়া মহাশ্মশানটি প্রায় একশ বছর ধরে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের শেষকৃত্যের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি শ্মশানের পেছনের দিকে জমি ক্রয় করে ওই শ্মশানের উপর দিয়ে একটি চলাচলের রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় নয়ন চৌধুরী, আবু শরিফ ও জিহানের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র শ্মশানের উপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করে। গত মঙ্গলবার সকালে শতাধিক বহিরাগত লোকজন নিয়ে তারা শ্মশানে গিয়ে কাজ শুরু করার চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা শ্মশানের কিছু গাছ কেটে ফেলে এবং সেখানে থাকা নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে মাস্টারপাড়ার কয়েকশ নারী-পুরুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই সম্ভাব্য হামলা বা দখলচেষ্টার আশঙ্কায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শ্মশান প্রাঙ্গণেই অবস্থান নিয়ে পাহারা দিচ্ছেন। অনেকেই সেখানে অস্থায়ীভাবে চুলা বসিয়ে রান্না-খাওয়া করছেন এবং দিনরাত পাহারা দিচ্ছেন।
শ্মশান ও মন্দির কমিটির সভাপতি মতিলাল সেন বলেন, এই শ্মশানটি শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি শ্মশানের পেছনে জমি কিনে এখন আমাদের পবিত্র স্থানের উপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি প্রশাসনের কাছে শ্মশানটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা সলিল দে, ভূপতি রঞ্জন দে, অসিত কুমার সেন, মধুসূদন দত্ত ও চপল কান্তি দে জানান, মাস্টারপাড়া মহাশ্মশান শুধু একটি শ্মশান নয়, এটি তাদের ধর্মীয় আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক। ভূমিদস্যুরা শ্মশানের পাশে জমি কিনে এখন পবিত্র স্থানটি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। হামলার আশঙ্কায় গ্রামবাসী ঘরবাড়ি ছেড়ে শ্মশান প্রাঙ্গণেই অবস্থান নিয়েছেন।
খবর পেয়ে বাঁশখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বাঁশখালী থানার এসআই মোহাম্মদ ইকবাল জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য পুলিশ নজরদারি রাখছে।
তবে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বলছেন, প্রশাসনের স্থায়ী উদ্যোগ ছাড়া এই শ্মশানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তারা দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শতবর্ষী এই শ্মশান সংরক্ষণে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
মতামত