শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

কুমারীকুণ্ডে অস্থায়ী মন্দিরে আগুন, নিখোঁজ সতীর শিলা ও ঘট; প্রাচীন তীর্থস্থান রক্ষায় উদ্বেগ


| প্রিন্ট সংস্করণ

কুমারীকুণ্ডে অস্থায়ী মন্দিরে আগুন, নিখোঁজ সতীর শিলা ও ঘট; প্রাচীন তীর্থস্থান রক্ষায় উদ্বেগ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বড় কুমিরা এলাকার দুর্গম পাহাড়ি অরণ্যের ভেতরে অবস্থিত প্রাচীন তীর্থস্থান কুমারীকুণ্ডে বাঁশ ও খড় দিয়ে নির্মিত একটি অস্থায়ী মন্দির পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে মন্দিরে স্থাপিত মা সতীর শিলা ও একটি ঘট নিখোঁজ থাকার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ধর্মপ্রাণ সনাতনীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি শিবদাস সংঘের উদ্যোগে কুমারীকুণ্ড তীর্থস্থানের পাশে বাঁশ ও খড় দিয়ে একটি ছোট অস্থায়ী মন্দির নির্মাণ করা হয়। সেখানে মা সতীর প্রতীক হিসেবে একটি শিলা এবং একটি পূজার ঘট স্থাপন করা হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ স্থানীয় ভক্ত ও এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে দেখতে পান, পুরো মন্দিরটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, মন্দিরের ভেতরে থাকা সতীর শিলা ও ঘটও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, মন্দিরের চারপাশে আগুন লাগানোর স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা গৌতম মজুমদার  বলেন, “আমরা গিয়ে দেখি মন্দিরের কিছুই অবশিষ্ট নেই, সব পুড়ে গেছে। সেখানে সতীর ঘট ছিল, শিলা ছিল—কিছুই পাওয়া যায়নি। আশপাশেও আগুন লাগানোর চিহ্ন দেখা গেছে। এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

কুমারীকুণ্ড সীতাকুণ্ড উপজেলার বড় কুমিরা এলাকার পাহাড়ি ঝিরিপথ অতিক্রম করে অরণ্যের গভীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন ও বহু আলোচিত তীর্থস্থান। স্থানীয়দের দাবি, তন্ত্রসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রাচীন গ্রন্থে এই স্থানকে ‘কন্যাশ্রম শক্তিপীঠ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বহু ভক্ত ও তীর্থযাত্রীর বিশ্বাস, এটি একান্ন শক্তিপীঠের একটি। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে বহু বছর ধরে কুমারীকুণ্ডকে ঘিরে আধ্যাত্মিক আবহ ও ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে আসছে।

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, রাজা দক্ষের যজ্ঞে অপমানিত হয়ে দেবী সতী আত্মাহুতি দিলে শোকাহত মহাদেব শিব সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে বিশ্বময় তাণ্ডব নৃত্য শুরু করেন। তখন সৃষ্টিকে রক্ষা করতে ভগবান বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করেন। দেবীর দেহের বিভিন্ন অঙ্গ উপমহাদেশের নানা স্থানে পতিত হয়ে পরবর্তীতে শক্তিপীঠ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তন্ত্রগ্রন্থ পীঠনির্ণয়তন্ত্র-এ ‘কন্যাশ্রম’ নামের একটি পীঠস্থানের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে দেবীর পৃষ্ঠদেশ পতিত হয়েছিল বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। স্থানীয় ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারীকুণ্ডই সেই ঐতিহাসিক পীঠস্থানের অংশ হতে পারে।

তবে কন্যাশ্রম শক্তিপীঠের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পণ্ডিত, গবেষক ও তন্ত্রসাধকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ দক্ষিণ ভারতের কন্যাকুমারীকে, কেউ উত্তর ভারতের প্রাচীন কন্যাকুব্জকে এই পীঠস্থান বলে মনে করেন। আবার কিছু গবেষকের মতে, চন্দ্রনাথ মন্দির সংলগ্ন পঞ্চক্রোশ এলাকার মধ্যেই কুমারীকুণ্ড শক্তিপীঠের অবস্থান। শক্তিপীঠ নিয়ে রচিত কয়েকটি গবেষণাগ্রন্থ এবং তন্ত্রসাধনাবিষয়ক আলোচনাতেও এই অঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ বছর আগে কুমারীকুণ্ড এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ মন্দির ছিল। বর্তমানে সেই মন্দিরের দৃশ্যমান কাঠামো আর নেই, তবে পাহাড়ি অরণ্যের ভেতরে এখনও ভগ্ন লাল ইট, প্রাচীন নির্মাণের চিহ্ন এবং ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়ে। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং পর্যাপ্ত সরকারি নজরদারির অভাবে এই তীর্থস্থান বহু বছর ধরেই অবহেলায় পড়ে আছে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, প্রায় দুই দশক আগে গুপ্তধনের আশায় কিছু লোক ওই এলাকায় খননকাজ চালায়। সেই সময় মন্দিরের অবশিষ্টাংশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তাঁদের অভিযোগ। স্থানীয়দের মতে, স্বাধীনতার পর একসময় সেখানে একজন মোহন্ত বসবাস করতেন এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও হতো। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে স্থানটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়ে যায়।

কুমারীকুণ্ডকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাস হলো—এখানে একইসঙ্গে উষ্ণ ও শীতল পানির উৎস রয়েছে। অনেক ভক্ত মনে করেন, এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য স্থানটির আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্যকে আরও গভীর করে তুলেছে। ফলে ধর্মীয় অনুরাগ, লোকবিশ্বাস, পুরাণ এবং তান্ত্রিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে কুমারীকুণ্ড শুধু একটি ভৌগোলিক স্থান নয়, বরং বহু মানুষের কাছে এক পবিত্র অনুভূতির কেন্দ্র।

ঘটনার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা কুমারীকুণ্ডের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং যথাযথ সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কুমারীকুণ্ডকে সরকারি বা প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে চিহ্নিত করে সুরক্ষা দেওয়া হলে এটি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান এবং সম্ভাবনাময় ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। একইসঙ্গে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড ও নিখোঁজ ধর্মীয় উপকরণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি উঠেছে।

চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কুমিরা এলাকায় অবস্থিত এই প্রাচীন তীর্থস্থানে পৌঁছাতে হলে প্রথমে কুমিরা পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে পাহাড়ি ঝিরিপথ ধরে হেঁটে অরণ্যের ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থা, অব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্থানটি এখনও সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটাই অজানা। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণ, নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে কুমারীকুণ্ডের মতো প্রাচীন এই তীর্থস্থান একদিন সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

ধর্মপ্রাণ সনাতনী সমাজের একাংশ মনে করছেন, কুমারীকুণ্ডে অস্থায়ী মন্দিরে আগুন এবং সতীর শিলা ও ঘট নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা একটি ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্মৃতিচিহ্নের অস্তিত্বের ওপর নতুন করে আঘাত। তাই ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং কুমারীকুণ্ডকে সংরক্ষণের জন্য অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কুমারীকুণ্ডে অস্থায়ী মন্দিরে আগুন, নিখোঁজ সতীর শিলা ও ঘট; প্রাচীন তীর্থস্থান রক্ষায় উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বড় কুমিরা এলাকার দুর্গম পাহাড়ি অরণ্যের ভেতরে অবস্থিত প্রাচীন তীর্থস্থান কুমারীকুণ্ডে বাঁশ ও খড় দিয়ে নির্মিত একটি অস্থায়ী মন্দির পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে মন্দিরে স্থাপিত মা সতীর শিলা ও একটি ঘট নিখোঁজ থাকার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ধর্মপ্রাণ সনাতনীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি শিবদাস সংঘের উদ্যোগে কুমারীকুণ্ড তীর্থস্থানের পাশে বাঁশ ও খড় দিয়ে একটি ছোট অস্থায়ী মন্দির নির্মাণ করা হয়। সেখানে মা সতীর প্রতীক হিসেবে একটি শিলা এবং একটি পূজার ঘট স্থাপন করা হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ স্থানীয় ভক্ত ও এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে দেখতে পান, পুরো মন্দিরটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, মন্দিরের ভেতরে থাকা সতীর শিলা ও ঘটও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, মন্দিরের চারপাশে আগুন লাগানোর স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা গৌতম মজুমদার  বলেন, “আমরা গিয়ে দেখি মন্দিরের কিছুই অবশিষ্ট নেই, সব পুড়ে গেছে। সেখানে সতীর ঘট ছিল, শিলা ছিল—কিছুই পাওয়া যায়নি। আশপাশেও আগুন লাগানোর চিহ্ন দেখা গেছে। এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”

কুমারীকুণ্ড সীতাকুণ্ড উপজেলার বড় কুমিরা এলাকার পাহাড়ি ঝিরিপথ অতিক্রম করে অরণ্যের গভীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন ও বহু আলোচিত তীর্থস্থান। স্থানীয়দের দাবি, তন্ত্রসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রাচীন গ্রন্থে এই স্থানকে ‘কন্যাশ্রম শক্তিপীঠ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বহু ভক্ত ও তীর্থযাত্রীর বিশ্বাস, এটি একান্ন শক্তিপীঠের একটি। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে বহু বছর ধরে কুমারীকুণ্ডকে ঘিরে আধ্যাত্মিক আবহ ও ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে আসছে।

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, রাজা দক্ষের যজ্ঞে অপমানিত হয়ে দেবী সতী আত্মাহুতি দিলে শোকাহত মহাদেব শিব সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে বিশ্বময় তাণ্ডব নৃত্য শুরু করেন। তখন সৃষ্টিকে রক্ষা করতে ভগবান বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করেন। দেবীর দেহের বিভিন্ন অঙ্গ উপমহাদেশের নানা স্থানে পতিত হয়ে পরবর্তীতে শক্তিপীঠ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তন্ত্রগ্রন্থ পীঠনির্ণয়তন্ত্র-এ ‘কন্যাশ্রম’ নামের একটি পীঠস্থানের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে দেবীর পৃষ্ঠদেশ পতিত হয়েছিল বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। স্থানীয় ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারীকুণ্ডই সেই ঐতিহাসিক পীঠস্থানের অংশ হতে পারে।

তবে কন্যাশ্রম শক্তিপীঠের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পণ্ডিত, গবেষক ও তন্ত্রসাধকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ দক্ষিণ ভারতের কন্যাকুমারীকে, কেউ উত্তর ভারতের প্রাচীন কন্যাকুব্জকে এই পীঠস্থান বলে মনে করেন। আবার কিছু গবেষকের মতে, চন্দ্রনাথ মন্দির সংলগ্ন পঞ্চক্রোশ এলাকার মধ্যেই কুমারীকুণ্ড শক্তিপীঠের অবস্থান। শক্তিপীঠ নিয়ে রচিত কয়েকটি গবেষণাগ্রন্থ এবং তন্ত্রসাধনাবিষয়ক আলোচনাতেও এই অঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ বছর আগে কুমারীকুণ্ড এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ মন্দির ছিল। বর্তমানে সেই মন্দিরের দৃশ্যমান কাঠামো আর নেই, তবে পাহাড়ি অরণ্যের ভেতরে এখনও ভগ্ন লাল ইট, প্রাচীন নির্মাণের চিহ্ন এবং ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়ে। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং পর্যাপ্ত সরকারি নজরদারির অভাবে এই তীর্থস্থান বহু বছর ধরেই অবহেলায় পড়ে আছে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, প্রায় দুই দশক আগে গুপ্তধনের আশায় কিছু লোক ওই এলাকায় খননকাজ চালায়। সেই সময় মন্দিরের অবশিষ্টাংশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তাঁদের অভিযোগ। স্থানীয়দের মতে, স্বাধীনতার পর একসময় সেখানে একজন মোহন্ত বসবাস করতেন এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও হতো। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে স্থানটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়ে যায়।

কুমারীকুণ্ডকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাস হলো—এখানে একইসঙ্গে উষ্ণ ও শীতল পানির উৎস রয়েছে। অনেক ভক্ত মনে করেন, এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য স্থানটির আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্যকে আরও গভীর করে তুলেছে। ফলে ধর্মীয় অনুরাগ, লোকবিশ্বাস, পুরাণ এবং তান্ত্রিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে কুমারীকুণ্ড শুধু একটি ভৌগোলিক স্থান নয়, বরং বহু মানুষের কাছে এক পবিত্র অনুভূতির কেন্দ্র।

ঘটনার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা কুমারীকুণ্ডের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং যথাযথ সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কুমারীকুণ্ডকে সরকারি বা প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে চিহ্নিত করে সুরক্ষা দেওয়া হলে এটি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান এবং সম্ভাবনাময় ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। একইসঙ্গে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড ও নিখোঁজ ধর্মীয় উপকরণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি উঠেছে।

চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কুমিরা এলাকায় অবস্থিত এই প্রাচীন তীর্থস্থানে পৌঁছাতে হলে প্রথমে কুমিরা পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে পাহাড়ি ঝিরিপথ ধরে হেঁটে অরণ্যের ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থা, অব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্থানটি এখনও সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটাই অজানা। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণ, নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে কুমারীকুণ্ডের মতো প্রাচীন এই তীর্থস্থান একদিন সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

ধর্মপ্রাণ সনাতনী সমাজের একাংশ মনে করছেন, কুমারীকুণ্ডে অস্থায়ী মন্দিরে আগুন এবং সতীর শিলা ও ঘট নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা একটি ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্মৃতিচিহ্নের অস্তিত্বের ওপর নতুন করে আঘাত। তাই ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং কুমারীকুণ্ডকে সংরক্ষণের জন্য অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
কুমারীকুণ্ডে অস্থায়ী মন্দিরে আগুন, নিখোঁজ সতীর শিলা ও ঘট; প্রাচীন তীর্থস্থান রক্ষায় উদ্বেগ
0:00 0:00
1.0x