শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা ও গণহেনস্তার অভিযোগ: গ্রেপ্তার ঘিরে প্রশ্ন, উদ্বেগে সংখ্যালঘু পরিবার


| প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা ও গণহেনস্তার অভিযোগ: গ্রেপ্তার ঘিরে প্রশ্ন, উদ্বেগে সংখ্যালঘু পরিবার
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ণাচ্ছ গ্রামে এক অসহায় হিন্দু ব্যক্তিকে মারধর করে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শুক্রবার রাতে জনিক বাবু দাস (৩২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে তাকে দীর্ঘ সময় মারধর করা হয় এবং একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে থানায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি অংশে “দ্রুত অভিযানে” গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়। এতে করে ঘটনার প্রকৃততা ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই জনসম্মুখে অপমান, শারীরিক নির্যাতন ও সামাজিক লাঞ্ছনার মতো ঘটনা উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এদিকে পুলিশ জানায়, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫) রাতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি হিসেবে জনিক বাবু দাস (৩২) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র মতে, মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এর ৯(১)/৩০ ধারায় রুজু করা হয়। কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সফিকুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে এসআই নাজমুল হক মামুনসহ একটি টিম আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে নিজ এলাকা পূর্ণাচ্ছগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর রোববার তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

ওসি মো. সফিকুল ইসলাম খান বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে এবং অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

তবে স্থানীয় সংখ্যালঘু পরিবার ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, অভিযোগের সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ আদালতের বিষয় হলেও গণহেনস্তা, জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় এবং সামাজিক চাপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের মতে, সম্প্রীতির জন্য পরিচিত সিলেট অঞ্চলেও এমন ঘটনা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা ও গণহেনস্তার অভিযোগ: গ্রেপ্তার ঘিরে প্রশ্ন, উদ্বেগে সংখ্যালঘু পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ণাচ্ছ গ্রামে এক অসহায় হিন্দু ব্যক্তিকে মারধর করে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শুক্রবার রাতে জনিক বাবু দাস (৩২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে তাকে দীর্ঘ সময় মারধর করা হয় এবং একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে থানায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি অংশে “দ্রুত অভিযানে” গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়। এতে করে ঘটনার প্রকৃততা ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই জনসম্মুখে অপমান, শারীরিক নির্যাতন ও সামাজিক লাঞ্ছনার মতো ঘটনা উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এদিকে পুলিশ জানায়, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫) রাতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি হিসেবে জনিক বাবু দাস (৩২) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র মতে, মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এর ৯(১)/৩০ ধারায় রুজু করা হয়। কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সফিকুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে এসআই নাজমুল হক মামুনসহ একটি টিম আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে নিজ এলাকা পূর্ণাচ্ছগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর রোববার তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ওসি মো. সফিকুল ইসলাম খান বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে এবং অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

তবে স্থানীয় সংখ্যালঘু পরিবার ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, অভিযোগের সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ আদালতের বিষয় হলেও গণহেনস্তা, জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় এবং সামাজিক চাপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের মতে, সম্প্রীতির জন্য পরিচিত সিলেট অঞ্চলেও এমন ঘটনা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা ও গণহেনস্তার অভিযোগ: গ্রেপ্তার ঘিরে প্রশ্ন, উদ্বেগে সংখ্যালঘু পরিবার
0:00 0:00
1.0x