আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনে তিনজন সনাতনী প্রার্থীর অংশগ্রহণ স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই আসনে সম্ভাব্য ভোট বিভাজন নির্বাচনের ফলাফলে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে হিন্দু ভোটারের হার প্রায় ৫৫ শতাংশ। এই বিপুল ভোট যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এক প্রার্থীর পক্ষে না গিয়ে তিন সনাতনী প্রার্থীর মধ্যে বিভক্ত হয়, তাহলে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যেতে পারেন অন্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। ফলে সনাতনী ভোট বিভাজনই এই আসনের নির্বাচনী ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব এবং একজন পরিচিত আইনজীবী। অধিকারবঞ্চিত মানুষের পক্ষে আপসহীন অবস্থান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনীতির কথা তুলে ধরে তিনি দলীয় পরিচয়ের বাইরে থেকে সংসদে জনগণের কণ্ঠস্বর হতে চান বলে জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এবং সর্বস্তরের মানুষের আশীর্বাদ ও সহযোগিতা কামনা করছেন।
অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী আশিস কুমার বাড়ৈ (এমএ, ইতিহাস)। তিনি বাংলাদেশ সংখ্যালঘু অধিকার পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি। নির্বাচনী প্রচারে তিনি কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়াকে সমতা, শান্তি ও উন্নয়নের মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। নিজেকে নেতা নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)-এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন সঞ্জয় চৌধুরী। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তার প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে নতুন আগ্রহ ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশে একাধিক সনাতনী রাজনৈতিক দল ও অসংখ্য সংখ্যালঘু সংগঠন থাকলেও ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অবস্থানের অভাব দীর্ঘদিনের। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে তিন সনাতনী প্রার্থীর একসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন তারা।
ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও ‘ভিআইপি’ আসন হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ-৩ আসনে এবারের নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তিন সনাতনী প্রার্থীর উপস্থিতিতে ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোন দিকে যায়, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচ্য বিষয়।
মতামত