সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, স্মৃতিকে ঘরছাড়া করার পাশাপাশি তার কোল থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে তার একমাত্র কন্যাসন্তানকে। নিজের অধিকার ফিরে পেতে এবং সন্তানের সান্নিধ্য পেতে স্মৃতি গত ৫২ ঘণ্টা ধরে শ্বশুরবাড়ির সামনে আমরণ অবস্থান গ্রহণ করেন। খোলা আকাশের নিচে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেও মন গলেনি পাষণ্ড শ্বশুরবাড়ির লোকদের। উল্টো ঔষধ ব্যবসায়ী শ্বশুর প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় যারা স্মৃতিকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন, তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শ্বশুর-শাশুড়ি কিংবা দেবর—কারও কাছেই কোনো সদুত্তর পাননি এই অসহায় নারী। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তিনি যেন নিজের ব্যবস্থা নিজেই করে নেন। স্মৃতির এই আর্তনাদ কেবল একটি পারিবারিক কলহ নয়, বরং এটি আমাদের সমাজব্যবস্থায় নারীর ভঙ্গুর অবস্থানের এক জলজ্যান্ত প্রতিচ্ছবি। একজন নারী সারাজীবন সর্বস্ব দিয়ে সংসার আগলে রাখলেও দিনশেষে তাকে এমন নির্মম পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে।
আগ্রাবাদের এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সনাতনী নারীদের কেবল শাস্ত্রীয় জ্ঞানে নয়, বরং আধুনিক শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বলীয়ান হওয়া কতটা জরুরি। কারো দয়ার পাত্রী হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার শক্তি অর্জনই এখন সময়ের দাবি। স্মৃতি রানী সরকার এখনো চান তার হারানো সংসার ও সন্তানকে ফিরে পেতে, কিন্তু অপরপক্ষ যেখানে তাকে নিঃস্ব করতে বদ্ধপরিকর, সেখানে স্মৃতির ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী জুটবে, তা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সামাজিক সজাগ দৃষ্টিই পারে এই অসহায় মাকে তার অধিকার ফিরিয়ে দিতে।
মতামত