তবে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে রোদ, বৃষ্টি আর ঝড়ে সিঁড়িটির অধিকাংশ স্থানেই এখন মরিচা ধরে ক্ষয়ে গেছে। লোহার কাঠামো নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে পাহাড়ের দুর্গম জনপদে বসবাসকারী প্রান্তিক মানুষ ও কৃষিপণ্য নিয়ে যাতায়াতকারীদের জন্য এই পথটি এখন আতঙ্কের নাম। স্থানীয়রা বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাষ্ট্র কি তবে কোনো বড় ধরনের লাশের মিছিলের জন্য অপেক্ষা করছে? আমাদের দেশে কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে কেন প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া হয় না?

এই চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট নাগরিক নাসির উদ্দিন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রাষ্ট্র বর্তমানে কেবল উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করা রাষ্ট্রের এক অমার্জনীয় অপরাধ। শ্রেণী বৈষম্যের পাহাড়ে আজ রাষ্ট্র আটকে আছে। সমতল আর পাহাড়ের প্রান্তিক মানুষের দুঃখ একই সূত্রে গাঁথা, তবে পাহাড়ের মানুষকে তাদের অস্তিত্ব ও এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্যও প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়। রাষ্ট্রের সম্পদ যখন গুটিকয়েক মানুষের পকেটে গিয়ে তাদের সম্পদের পাহাড় উঁচু করছে, তখন সাধারণ মানুষের পাহাড় জয়ের সিঁড়িগুলো ভেঙে পড়ছে। এই বৈষম্য না কমলে পাহাড়ের মানুষের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের এই দুর্গম জনপদের মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে টিকিয়ে রাখতে অনতিবিলম্বে মায়ুং কপালের এই সিঁড়ি সংস্কারের দাবি উঠেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি যেন অবহেলায় কোনো ট্র্যাজেডির সাক্ষী না হয়, এটাই এখন সাধারণ মানুষের একমাত্র প্রার্থনা।
মতামত