শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

পাহাড়ের ‘স্বর্গের সিঁড়ি’ এখন মরণফাঁদ: প্রশাসনের অবহেলায় চরম দুর্ভোগে ১০ গ্রাম


| প্রিন্ট সংস্করণ

পাহাড়ের ‘স্বর্গের সিঁড়ি’ এখন মরণফাঁদ: প্রশাসনের অবহেলায় চরম দুর্ভোগে ১০ গ্রাম
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
প্রকৃতির অবারিত সৌন্দর্য আর পাহাড়ের চূড়া থেকে চেংগী উপত্যকার অপার্থিব দৃশ্য—সব মিলিয়ে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেড়াছড়া ইউনিয়নের ‘মায়ুং কপাল’ এলাকাটি যেন বিধাতার নিজ হাতে গড়া এক স্বর্গরাজ্য। পাহাড়ের বুক চিরে আকাশপানে উঠে যাওয়া এই পথটিকে পর্যটকরা ভালোবেসে নাম দিয়েছেন ‘স্বর্গের সিঁড়ি’। কিন্তু এক সময়ের সেই গর্বের সিঁড়ি আজ সংস্কারের অভাবে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত এক দশক ধরে রক্ষণাবেক্ষণহীন অবস্থায় পড়ে থাকা এই লোহার সিঁড়িটি যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


​মায়ুং কপাল এলাকার ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার নারী-পুরুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই পাহাড়। এক সময় গাছের গুঁড়ির বিপজ্জনক ধাপ বেয়ে ১২০৮ ফুট উচ্চতার এই পাহাড়ে উঠতে হতো। স্থানীয়দের দুঃখ লাঘবে ২০১৫ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে এখানে লোহার প্রায় ৩০০ ধাপের একটি স্থায়ী সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর পরই এর শৈল্পিক কারুকার্য আর পাহাড়ের চূড়া থেকে দিগন্তজোড়া সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় তরুণদের প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয় এই মায়ুং কপাল।

​তবে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে রোদ, বৃষ্টি আর ঝড়ে সিঁড়িটির অধিকাংশ স্থানেই এখন মরিচা ধরে ক্ষয়ে গেছে। লোহার কাঠামো নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে পাহাড়ের দুর্গম জনপদে বসবাসকারী প্রান্তিক মানুষ ও কৃষিপণ্য নিয়ে যাতায়াতকারীদের জন্য এই পথটি এখন আতঙ্কের নাম। স্থানীয়রা বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাষ্ট্র কি তবে কোনো বড় ধরনের লাশের মিছিলের জন্য অপেক্ষা করছে? আমাদের দেশে কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে কেন প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া হয় না?

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

​এই চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট নাগরিক নাসির উদ্দিন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রাষ্ট্র বর্তমানে কেবল উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করা রাষ্ট্রের এক অমার্জনীয় অপরাধ। শ্রেণী বৈষম্যের পাহাড়ে আজ রাষ্ট্র আটকে আছে। সমতল আর পাহাড়ের প্রান্তিক মানুষের দুঃখ একই সূত্রে গাঁথা, তবে পাহাড়ের মানুষকে তাদের অস্তিত্ব ও এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্যও প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়। রাষ্ট্রের সম্পদ যখন গুটিকয়েক মানুষের পকেটে গিয়ে তাদের সম্পদের পাহাড় উঁচু করছে, তখন সাধারণ মানুষের পাহাড় জয়ের সিঁড়িগুলো ভেঙে পড়ছে। এই বৈষম্য না কমলে পাহাড়ের মানুষের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

​পার্বত্য চট্টগ্রামের এই দুর্গম জনপদের মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে টিকিয়ে রাখতে অনতিবিলম্বে মায়ুং কপালের এই সিঁড়ি সংস্কারের দাবি উঠেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি যেন অবহেলায় কোনো ট্র্যাজেডির সাক্ষী না হয়, এটাই এখন সাধারণ মানুষের একমাত্র প্রার্থনা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পাহাড়ের ‘স্বর্গের সিঁড়ি’ এখন মরণফাঁদ: প্রশাসনের অবহেলায় চরম দুর্ভোগে ১০ গ্রাম

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
প্রকৃতির অবারিত সৌন্দর্য আর পাহাড়ের চূড়া থেকে চেংগী উপত্যকার অপার্থিব দৃশ্য—সব মিলিয়ে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেড়াছড়া ইউনিয়নের ‘মায়ুং কপাল’ এলাকাটি যেন বিধাতার নিজ হাতে গড়া এক স্বর্গরাজ্য। পাহাড়ের বুক চিরে আকাশপানে উঠে যাওয়া এই পথটিকে পর্যটকরা ভালোবেসে নাম দিয়েছেন ‘স্বর্গের সিঁড়ি’। কিন্তু এক সময়ের সেই গর্বের সিঁড়ি আজ সংস্কারের অভাবে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত এক দশক ধরে রক্ষণাবেক্ষণহীন অবস্থায় পড়ে থাকা এই লোহার সিঁড়িটি যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


​মায়ুং কপাল এলাকার ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার নারী-পুরুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই পাহাড়। এক সময় গাছের গুঁড়ির বিপজ্জনক ধাপ বেয়ে ১২০৮ ফুট উচ্চতার এই পাহাড়ে উঠতে হতো। স্থানীয়দের দুঃখ লাঘবে ২০১৫ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে এখানে লোহার প্রায় ৩০০ ধাপের একটি স্থায়ী সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর পরই এর শৈল্পিক কারুকার্য আর পাহাড়ের চূড়া থেকে দিগন্তজোড়া সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় তরুণদের প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয় এই মায়ুং কপাল।

​তবে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে রোদ, বৃষ্টি আর ঝড়ে সিঁড়িটির অধিকাংশ স্থানেই এখন মরিচা ধরে ক্ষয়ে গেছে। লোহার কাঠামো নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে পাহাড়ের দুর্গম জনপদে বসবাসকারী প্রান্তিক মানুষ ও কৃষিপণ্য নিয়ে যাতায়াতকারীদের জন্য এই পথটি এখন আতঙ্কের নাম। স্থানীয়রা বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাষ্ট্র কি তবে কোনো বড় ধরনের লাশের মিছিলের জন্য অপেক্ষা করছে? আমাদের দেশে কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে কেন প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া হয় না?

​এই চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট নাগরিক নাসির উদ্দিন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রাষ্ট্র বর্তমানে কেবল উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করা রাষ্ট্রের এক অমার্জনীয় অপরাধ। শ্রেণী বৈষম্যের পাহাড়ে আজ রাষ্ট্র আটকে আছে। সমতল আর পাহাড়ের প্রান্তিক মানুষের দুঃখ একই সূত্রে গাঁথা, তবে পাহাড়ের মানুষকে তাদের অস্তিত্ব ও এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্যও প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়। রাষ্ট্রের সম্পদ যখন গুটিকয়েক মানুষের পকেটে গিয়ে তাদের সম্পদের পাহাড় উঁচু করছে, তখন সাধারণ মানুষের পাহাড় জয়ের সিঁড়িগুলো ভেঙে পড়ছে। এই বৈষম্য না কমলে পাহাড়ের মানুষের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

​পার্বত্য চট্টগ্রামের এই দুর্গম জনপদের মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে টিকিয়ে রাখতে অনতিবিলম্বে মায়ুং কপালের এই সিঁড়ি সংস্কারের দাবি উঠেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি যেন অবহেলায় কোনো ট্র্যাজেডির সাক্ষী না হয়, এটাই এখন সাধারণ মানুষের একমাত্র প্রার্থনা।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
পাহাড়ের ‘স্বর্গের সিঁড়ি’ এখন মরণফাঁদ: প্রশাসনের অবহেলায় চরম দুর্ভোগে ১০ গ্রাম
0:00 0:00
1.0x