বগুড়ার নন্দীগ্রামে এক হিন্দু গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে নুর নবী সরকার (৪৬) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ১নং বুড়ইল ইউনিয়নের কামুল্যা সরকার পাড়া চাকরান আধখোলা গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নুর নবী সরকার উপজেলার সিংজানী গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী পেশায় একজন মুচি (জুতা সেলাইকারী)। তিনি প্রতিদিনের মতো রবিবার সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন এবং কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাড়িতে ফিরে আসেন। বাড়িতে প্রবেশ করতেই তিনি দেখতে পান যে, অভিযুক্ত নুর নবী সরকার তাঁর বাড়ির ভেতরে ছাদে ওঠার সিঁড়ির সামনে তাঁর স্ত্রীর হাত ধরে টানাটানি করে শ্লীলতাহানি করছে। এ সময় তাঁর স্ত্রী আত্মরক্ষার জন্য ধস্তাধস্তি করছিলেন। স্বামীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্তকে বাড়ির ভেতরেই আটক করে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এলাকায় সরস্বতী পূজার অনুষ্ঠান চলায় পাড়ার মানুষ যখন পূজা অর্চনায় ব্যস্ত ছিল, সেই সুযোগেই আসামী বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূকে একা পেয়ে এই অপরাধ ঘটায়। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, নুর নবী সরকার দীর্ঘ দিন ধরেই ওই গৃহবধূকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও সে নিজেকে সংশোধন করেনি। স্থানীয়রা অভিযুক্তকে আটকের পর থানায় খবর দিলে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির মামলায় অভিযুক্ত নুর নবী সরকারকে গ্রেপ্তার করে সোমবার সকালেই আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র : সনাতন বার্তা
মতামত