ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের দাপুটে ও জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস আবারও আলোচনায় এসেছেন তার নতুন ক্যারিয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে। শাকিব খানের সাথে জুটি বেঁধে অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দেওয়া এই অভিনেত্রী দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বর্তমানে নিজের চলচ্চিত্র যাত্রাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাইছেন। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি কলকাতার প্রখ্যাত নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির চলচ্চিত্রে অভিনয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।
অপু বিশ্বাস মনে করেন, একজন শিল্পীর পূর্ণতা পাওয়ার পেছনে পরিচালকের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, পরিচালকই শিল্পী নির্বাচন করেন এবং তার মাধ্যমেই একজন শিল্পীর প্রকৃত মেধা পর্দায় ফুটে ওঠে। বাংলাদেশের কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা এফ আই মানিক, আমজাদ হোসেন, চাষী নজরুল ইসলাম এবং সোহানুর রহমান সোহানের মতো গুণী পরিচালকদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। দেশের চলচ্চিত্রে নিজের অনেক অপূর্ণতা পূরণ হলেও এখন তার দৃষ্টি ওপার বাংলার চলচ্চিত্রের দিকে। সৃজিত মুখার্জির নির্মাণশৈলীর প্রশংসা করে তিনি জানান, সঠিক সুযোগ, সময় এবং চরিত্রের প্রয়োজনে সৃজিত মুখার্জি তাকে প্রস্তাব দিলে তিনি সানন্দে সেই কাজ করতে আগ্রহী।
পেশাগত জীবনে নতুন এই আগ্রহের পাশাপাশি বর্তমানে অপু বিশ্বাসের হাতে রয়েছে ‘দুর্বার’ ও ‘সিক্রেট’ নামক দুটি চলচ্চিত্র। এর মধ্যে ‘দুর্বার’ ছবির প্রায় ৬০ শতাংশ এবং ‘সিক্রেট’ ছবির ৪০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
তবে রূপালি পর্দার এই ব্যস্ততার আড়ালে সাধারণ মানুষের মাঝে, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৃহত্তর হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের মধ্যে তাকে নিয়ে চাপা ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিদ্যমান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অর্জন থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিশেষ সিদ্ধান্ত তথা ধর্মান্তরিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মাঝে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। শাকিব খানকে বিবাহের উদ্দেশ্যে সনাতন ধর্ম ত্যাগ করার বিষয়টি হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেননি, যার ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তাকে নিয়ে এখনো তীব্র সমালোচনা ও ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। সামাজিক এই বাস্তবতার মাঝেই অপু বিশ্বাস নিজের অভিনয় জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস সাজানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মতামত