মুন্সিগঞ্জ এলাকার ডেমলা ফিলিং স্টেশনে বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। মোটরসাইকেল চালক সাগর বৈদ্যের মা বিথিকা রানী বৈদ্য দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন ছেলের জন্য পেট্রোল সংগ্রহের আশায়। তার চোখে-মুখে ছিল উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার ছাপ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকটের কারণে সাগর বৈদ্য বর্তমানে মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ রেখে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মা নিজেই জ্বালানি সংগ্রহে নেমেছেন।
বিথিকা রানী বৈদ্য বলেন, তার ছেলে আগে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালাতেন। কিন্তু জ্বালানি না পাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে তিনি বাধ্য হয়ে দুই দিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর ফিলিং স্টেশনটি সীমিত পরিসরে জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেছে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ইউনিয়নভিত্তিকভাবে তেল বিতরণ করা হচ্ছে।
তবে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এর আগে বুড়িগোয়ালিনী এলাকায় জ্বালানি বিতরণকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে, যার ফলে ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই জ্বালানি পাচ্ছেন না। এতে শত শত মোটরসাইকেল চালক বেকার হয়ে পড়ছেন এবং অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মনে করছেন, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে। তবে আপাতত জ্বালানি সংকটই শ্যামনগরের সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মতামত