আয়োজনের একটি বিশেষ অংশে চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যাপক ডাঃ রজত কুমার বিশ্বাসকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এছাড়াও একাডেমির কৃতি শিক্ষার্থী, যারা জিপিএ ৫ ও বৃত্তি লাভ করেছে এবং বার্ষিক প্রগতি মূল্যায়ন পরীক্ষায় বিভিন্ন বর্ষে প্রথম স্থান অধিকার করেছে, তাদের হাতে মেধা স্মারক ও সার্টিফিকেট তুলে দিয়ে উৎসাহিত করেন অতিথিবৃন্দ। এরপর সম্মিলন উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক আশীষ কুমার চৌধুরীর সমাপনী বক্তব্যের পর অতিথিরা সম্মিলিতভাবে ‘মঙ্গল প্রদীপ’ প্রজ্জ্বলন করেন। প্রদীপের পবিত্র শিখায় অশুভ শক্তির বিনাশ আর সুরের আলোর প্রসারের প্রত্যয় নিয়ে শুরু হয় মূল সাংস্কৃতিক পর্ব।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে একাডেমির শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় পরিবেশিত হয় সম্মেলক সংগীত। শিল্পী সৈকত দত্তের সংগীত পরিচালনা ও প্রশিক্ষণে এই পরিবেশনায় তবলা সঙ্গত করেন রিপন দাশ। এরপর মঞ্চে মোহনীয় ছন্দ নিয়ে আসেন নৃত্যাঞ্চল সংগীত নিকেতনের শিল্পীরা। সুমী চক্রবর্তীর পরিচালনায় তাদের সমবেত ‘কথক নৃত্য’ দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। একক পরিবেশনায় শিল্পী সৈকত দত্ত রাগ ভীমপলাসি পরিবেশন করে শাস্ত্রীয় সংগীতের গভীরতা ফুটিয়ে তোলেন। এই পর্বে তবলায় সমীর আচার্য্য, হারমোনিয়ামে অনন্যা দে এবং তানপুরায় অর্পা দাশ ও পরশ মনি দে তাকে যোগ্য সঙ্গত দেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল একাডেমির অভিভাবকদের সমবেত সংগীত পরিবেশনা, যা উপস্থিত সুধীজনের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। সন্ধ্যার পর আসর আরও জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন কলকাতা থেকে আগত অতিথি শিল্পী অরণ্য চৌধুরী সন্তুরে রাগ কিরওয়ানী পরিবেশন করেন। সন্তুরের ঝংকারে আর সমীর আচার্য্যের তবলার সংগতে মিলনায়তন জুড়ে এক স্বর্গীয় আবেশ ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে দিনের শুরুতে শিক্ষার্থীরা পঞ্চকবির গান পরিবেশন করে শ্রদ্ধা জানায় বাংলা সংগীতের মহাজনদের প্রতি। গভীর রাত অবধি চলা এই অনুষ্ঠানটি চট্টগ্রামের সংগীত জগতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে, যা কেবল সুরের সাধনাই নয় বরং সনাতনী সংস্কৃতির শিকড়কে আঁকড়ে ধরার এক বলিষ্ঠ প্রয়াস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
মতামত